‘প্রায় সময়ই আমার কাছে থাকে ওরা। ওদের কোলে কোলে রাখি। তবে সারাক্ষণ কি যেন একটা খুঁজে ফেরে দুজন।’ আদরের নাতি নোমান হোসেন (৩) ও নুসাইবার (৯ মাস) কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে সেলিম হায়দারের। তাঁর পুত্রবধূ হুমায়রা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন গত ২২ সেপ্টেম্বর। এ ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে সেলিমের ছেলে আবু নাঈম। অবুঝ দুই শিশুর দায়িত্ব এখন তাই তাঁর কাঁধে।

নোমান ও নুসাইবা যেন সারাক্ষণ এদিক-ওদিক তাকিয়ে মা-বাবার খোঁজ করে। যাদের একজন কোনোদিন আর ফিরবেন না, অন্যজনের ফেরাও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। স্বজনরা জানান, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বাদাম হাটপাড়ার বাসিন্দা আবু নাঈমের সঙ্গে হুমায়রা খাতুনের বিয়ে হয় বছর পাঁচেক আগে। ৩ বছর আগে নোমানের, ৯ মাস আগে নুসাইবার জন্ম হয়।

হুমায়রার স্বজন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে স্বামী আবু নাঈমের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন হুমায়রা। এরই মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন স্বামী। এমনকি তিনি আরেকটি বিয়েও করেন। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে ছিল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন হুমাইরা। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর স্বজনের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ আবু নাঈমকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সেই থেকে দাদার কাছে আছে নোমান ও নুসাইবা। দাদা সেলিম হায়দার বললেন, শিশু দুটির চোখমুখে মা-বাবাকে কাছে পাওয়ার আকুতি দেখেন তিনি। চেষ্টা করেন সব সময় আগলে রাখার। পারিবারিক কলহের জেরে যেন কোনো শিশুদের এমন পরিণতির শিকার না হতে হয়– এটাই সবার প্রতি তাঁর আহ্বান।

শিশুদের প্রসঙ্গ জানালে কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিলা বেগম বলেন, ‘আমাদের কাজ মূলত নারীদের নিয়ে। এ নিয়ে তাদের বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান। সেখানে যেসব নারীরা আসেন, তাদের ব্যক্তিগতভাবে আমি এসব বিষয়ে সচেতন করে থাকি।’ ইউনিয়ন পরিষদেও দাম্পত্য কলহ বিষয়ে তাদের কার্যক্রম রয়েছে
জানিয়ে বলেন, সেখানেও সচেতনতামূলক কাজ করা হয়।
ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল রানা বলেন, ‘আমি তো এসব বিষয় নিয়ে কাজ করিনি। তবে খোঁজ নিয়ে জানাব।’