একটি ছোট্ট মুখ। সেই মুখের দিকে তাকিয়েই যেন বেঁচে থাকার নতুন সাহস খুঁজে পান সজিব মিয়া। বয়স মাত্র ২৮। অথচ জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে হাসপাতালের বিছানা, ওষুধ আর চিকিৎসার ব্যস্ততায়। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কিডনি রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সজিব বলেন, ‘ছোট্ট মেয়েটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। ওর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, আমার বেঁচে থাকা দরকার।’
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সবুজপাড়ার বাসিন্দা সজিবের জীবনে অসুস্থতার শুরু ২০১৭ সালে। তখন তিনি চিলমারী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর কিডনিতে গুরুতর সমস্যা হয়েছে।
এরপর শুরু হয় চিকিৎসার দীর্ঘ পথচলা। প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা। পরিবারের সামর্থ্যের শেষ সম্বলটুকু নিয়েও ছুটেছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার আশায় ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও দুই দফা চিকিৎসা নেন।
কিন্তু এত চিকিৎসার পরও থামেনি রোগের অগ্রযাত্রা। সময়ের সঙ্গে কমতে থাকে দুই কিডনির কার্যক্ষমতা। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বাঁ কিডনি মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডান কিডনি ১৭ দশমিক ১ শতাংশ কাজ করছে।
এখন চিকিৎসকদের পরামর্শ—কিডনি প্রতিস্থাপন।
কিন্তু চিকিৎসার এই পর্যায়ে এসে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। আর ডোনার না পাওয়া গেলে খরচ বেড়ে যেতে পারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সজিব একসময় গাজীপুর ও ঢাকার তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর আয়ে চলত সংসার। অসুস্থ হওয়ার পর সেই আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। স্বামীর চিকিৎসার কারণে সজিবের স্ত্রীকেও পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছিলেন।
চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি হারিয়েছে তাদের অনেক কিছু। বিক্রি করা হয়েছে তিনটি গরু ও গাছপালা। প্রায় ৬ শতক জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঋণ। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকেও একবার পাওয়া গেছে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা।
অর্থের সংকটে এখন থমকে আছে সজিবের চিকিৎসা। সামনে কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে পরিবারের অসহায়ত্ব—সবকিছুর মাঝেও মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন দেখেন আবার সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরবেন।
সজিব বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার পর পরিবারের যা কিছু ছিল, সবই চিকিৎসা করতে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার কোনো আয় নেই। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান মানুষ, মানবিক সংগঠন ও দানশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আমার চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন করছি।’
সজিবের বাঁচার এই লড়াইয়ে এখন প্রয়োজন মানুষের সহযোগিতা। সামর্থ্যবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও দানশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে হয়তো আবারও পরিবারের কাছে সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবেন তিনি। আর ছোট্ট মেয়েটিও ফিরে পেতে পারে তার বাবাকে।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা
রকেট: ০১৬১৪-৭০০৪৫২ — সজিব মিয়ার ব্যক্তিগত নম্বর
বিকাশ: ০১৯৯৮-৪৫০৪৭০ — সজিবের স্ত্রীর ব্যক্তিগত নম্বর







মন্তব্য করুন