চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোবারক হোসেনকে (৫২) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্ত মোবারককে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মোবারক হোসেন উপজেলার লেজাকান্দি গ্রামের জমাদার বাড়ির হোসেন আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সম্পর্কে ভুক্তভোগী কিশোরী তার আত্মীয়ের মেয়ে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে ফাঁদে ফেলে ওই কিশোরীকে নিজের বসতঘরে ডেকে নেন মোবারক। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করা হয়। পরে ঘটনাটি প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে কিশোরীকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়। গত তিন-চার দিন আগে অভিযুক্ত ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে অভিযুক্ত মোবারক নিজে উপস্থিত না হলেও তার পক্ষের লোকজন অংশ নেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেই সালিশ শেষ হয়।

​পরদিন শুক্রবার সকালে মোবারক পুনরায় ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার দোকানের সামনে জড়ো হয়ে তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বোরহান উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ের জীবন ও ভবিষ্যৎ চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে সে। আমি এই জঘন্য অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপ-পুলিশ পরিদর্শক জামশেদ জানান, “মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক আলামত ও ভিডিও সংগ্রহ সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।”

​মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, “শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই নাজিম প্রধান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ বিজ্ঞ বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়েছে।