
এফ এম আতোয়ার আসু, আদিতমারী, লালমনিরহাট, প্রতিনিধিঃ জাতীয় শোক দিবস আজ। বেদনাবিধুর এক শোকের দিন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী।

করোনা মহামারির কারণে এবারের শোক দিবসের কর্মসূচি হচ্ছে সীমিত পরিসরে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক পরিধান করার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
সেদিন যা ঘটেছিল : বাঙালি ও বাংলাদেশের শোকের দিন আজ। ১৯৭৫-এর এই কালো দিনটিতেই জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্ররোচনায় মানবতার দুশমন, ঘৃণ্য ঘাতকরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
কিছু বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকের চক্রান্ত এবং সেনাবাহিনীর এক দল বিপথগামী সদস্যের বুলেটের নির্মম আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল। ইতিহাসের এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে সেদিন আরো প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ভাগনে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে।
এ কারণে আজ বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিময় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দিন। আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে শোকের মাসে পরিণত হয়েছে আজকের এই দিনটির জন্য। ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও সেদিন আল্লাহর অসীম কৃপায় দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা।
উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে। সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ভুমি কর্মকর্তা মহোদয় সহ সকল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থেকে পুপুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সর্ব পরি দোয়া মাহফিল ও আরও নানা কার্যক্রমের মধ্যো দিয়ে পালিত হচ্ছে আজকের এই দিন।





