বিদ্যানন্দের রেস্টুরেন্টে মাত্র এক টাকায় মিলছে ছয়শো টাকার খাবার

0
28

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
যে কেউ শুনে মনে করবে হয়তো শায়েস্তা খানের আমলের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু না এমনই একটি ঘটনার জন্ম দিয়েছে দেশের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
কুড়িগ্রাম সদরের প্রত্যন্তঅঞ্চল চর শুভারকুটি এলাকার হত দরিদ্র মানুষদের পছন্দ মতো খাবার খাওয়ার সুব্যবস্থা করতেই এই ব্যাতিক্রমী আয়োজনের উদ্ভোদন করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
সমাজে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে যারা তিন বেলা খেতে পায়না,যাদের এক বেলা ভালো খাবার খেতে হাত পাততে হয় সমাজের বিত্তবানদের কাছে।সেই সকল মানুষ দের তৃপ্তি সহকারে খাবারের ব্যবস্থা করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এক টাকার বিনিময়ে এই সময়ে একটা চকলেট ছাড়া কিছুই মেলেনা অথচ এই এক টাকায়ই পেট পুরে খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে চর শুভারকুটি এলাকার অসহায় মানুষেরা।খাবারের মেন্যু হিসেবে থাকছে ভাত মাছ মাংস ডিম ডাল সবজি সালাদ সহ প্রায় ১২ ধরনের আইটেম।মাত্র এক টাকায় এসব বাহারী রকমের খাবার পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হত-দরিদ্র মানুষ গুলো।

ছেড়া,নোংরা পোষাকে গরীব অসহায় মানুষ গুলি দেশের নামি-দামি হোটেলে গিয়ে খাবার খেতে পারেনা,এই বৈষম্য দূর করতেই এমন ব্যাতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।
বিদ্যানন্দের আধুনিক ঘরোয়া এই রেস্টুরেন্টে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পেশাদার বাবুর্চি, স্টাফদের দ্বারা রান্না করা এই খাবার খেতে সকাল থেকেই ভির জমে মানুষের। এক সাথে প্রায় ৫০ জন মানুষ খেতে পারে এই রেস্টুরেন্টে।
এছাড়াও বন্যা কিংবা যেকোনো দুর্ভিক্ষে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াতে স্থাপন করা হয়েছে একটি মেগা চুলার।যেখানে একবার রান্না করলে প্রায় দশ হাজার মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব।

কমেলা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা বলেন,আমরা গরীব মানুষ মাছ মাংস কিনে খেতে পারিনা,বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অনেক দিন পর এতো ভালো খাবার খাইলাম,আমরা খুব খুশি।
আব্দুল কাদের নামের আরেক জন বলেন,খুব ভালো খাইলাম।আল্লাহ তাদের ভালো করুক।
সহিতন বেওয়া বলেন এক টাকায় খাবার খাওয়াবে শুনে বিশ্বাস হয় নাই।এতো গুলা খাবার খায়া খুব ভালো লাগছে।জীবনেও এতো ভালো খাবার খাই নাই।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ প্রধান সালমান খান ইয়াছিন জানান,বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন এই রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম চালু থাকবে তবে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে প্রতিদিনই এই রেস্টুরেন্ট চলু রাখা সম্ভব। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জন মানুষ লহাবার খেতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।

হলোখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন,আমার এলাকার গরীব অসহায় মানুষের জন্য বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।তাদের এই কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হোক এই কামনা করি।
দেশের বিভিন্ন দরিদ্র এলাকায় এই ধরনের কার্যক্রম চালু করা গেলে মানুষের খাদ্য কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি পুষ্টিজনিত অভাবের রোগ থেকে মুক্তি মিলবে গরীব মানুষের।