‘এমটিএফই’ অ্যাপে সর্বস্বান্ত নওগাঁ হাজারো মানুষ

0
4

নওগাঁয় ‘এমটিএফই’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দ্রুত আয় করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন হাজারো মানুষ। শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল এই অ্যাপটি। যেখানে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ টাকা বিনিয়োগ করে দ্রুত আয় করার স্বপ্ন দেখছিলেন। হঠাৎ করে আ্যপটি থেকে বিনিয়োগকারীরা কোন টাকা উঠাতে পারছেন না। এতে যারা দ্রুত আয় করার স্বপ্ন নিয়ে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তারা এখন সর্বস্বান্ত। উল্টো ঋণের বোঝা ধরিয়ে দিয়েছে এমটিএফই।
জানা গেছে, বিদেশি অ্যাপ মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এমটিএফই) নামের একটি অনলাইন ট্রেডিং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এমটিএফই অ্যাপটি চালু থাকা অবস্থায় একাউন্ট চালু করার জন্য সর্বনিম্ন ২৬ ডলারের সমপরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হতো। সেই টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন পাওয়া যাবে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা। আর এসব প্রলোভন দেখিয়ে প্রচারণা করছিলেন কিছু যুবক। আর এতেই হুমড়ি খেয়ে অ্যাপটিতে এ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। সেই একাউন্টে কেউ জমি বন্ধক রেখে, কেউবা জমানো টাকা আবার কেউবা বিভিন্ন এনজিও থেকে ও ধারদেনা করে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন এবং জেলাতে এমটিএফই অ্যাপের কয়েজন সিও হিসেবেও কাজ করতেন। তারা কাউকে একাউন্ট খুলে দিলে কোম্পানি থেকে তাদের কমিশনও দেওয়া হতো।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে নওগাঁ শহরের এক ভুক্তভোগী জানান, একটু লাভের আশায় ধার করে ১ লাখ টাকা ইনভেস্ট করেছিলাম। কিছুদিন তারা ওই টাকার উপর লাভও দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে কিছুদিন আগে থেকে অ্যাপটি থেকে টাকা উঠানো বন্ধ করে দেন। এখন শুনছি তারা টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এখন ধারের টাকা পরিশোধ করবো কিভাবে সেই চিন্তায় আছি।
তিনি আরও বলেন, লাভের আশায় এসে উল্টা ঋণের বোঝা ধরিয়ে দিয়েছে এমটিএফই। সব ডলার কেটে নিয়ে উল্টো একাউন্টে বিশাল অংকের মাইনাস ডলার ধরিয়ে দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা পরিশোধ করতে বলেছে। ২৪ ঘণ্টার পর আজকে আবার তাদের অ্যাপে নোটিশ দিছে যে, ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে আপনি ঋণ পরিশোধ করেননি। আপনাকে আরো ২৪ ঘণ্টা সময় দেয়া হল, এরমধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে আপনাকে আইনী নোটিশ পাঠানো হবে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নিবেন তারা।
নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী আলামিন বলেন, একজন এসে বললো এমটিএফই টাকা ইনভেস্ট করলে নাকি টাকা আয় করা যাবে। পরে একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা তুলে সেখানে বিনিয়োগ করি। এখন ওই অ্যাপসে আর প্রবেশ করা যাচ্ছে। এখন টাকা গুলো না পেলে এনজিওর টাকা পরিশোধ করবো কিভাবে ? কোনো কিছু বুঝতে পারছি না।

রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের আরেক ভুক্তভোগী নাঈম বলে, আমি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালায়। একজনের পাল্লায় পরে লাভের আশায় কিছুদিন আগেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২৫ হাজার টাকা ইনভেস্ট করেছিলাম। কিন্তু তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল। এখন কিভাবে কি করবো কোন কিছুই বুঝতে পারছি না।
জেলার মহাদেবপুর উপজেলাতে লতিফুল লিটন নামে এমটিএফই অ্যাপের সিও হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির খবর পাওয়া গেল তার সাথে মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তিনি জানান, এমটিএফই অ্যাপের কোন সিও তিনি ছিলেননা। তবে তিনি তার কয়েকজন বন্ধুদের সাথে নিজের মত করে এমটিএফই অ্যাপে কাজ করতেন।

এমটিএফই অ্যাপের সিও হিসেবে পরিচয়দানকারী রানীনগর উপজেলার রাব্বী জানান, প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার লতিফুল নামে একজন তাকে লিংক দিয়েছিলেন। এবং সেখানে কাজ করার জন্য বলেন। পরে তিনি সেখানে বিনোয়োগ করেন এবং বেশ কয়েকজনকে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে কাউকে কোন ধরণের প্রলোভন দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, এবিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কেউ কোন অভিযাগ করেনি। কোন ভুক্তভোগী অভিয়োগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু আপনার মাধ্যমেই এরকম ঘটনা প্রথম শুনলাম। আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি বিষয়টি।