নওগাঁর ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫ বছরের শিশু মাশরাফিকে গাছে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিশু ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। শিশু মাশরাফি উপজেলার রূপনারায়ণপুর (শল্পী খাটাপাড়া) গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন- একই গ্রামের প্রতিবেশী সাইদুল ইসলাম, তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা ও ছেলে মিনহাজ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়- গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার রূপনারায়ণপুর (শল্পী খাটাপাড়া) গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে মাশরাফির সঙ্গে খেলাধুলা নিয়ে প্রতিবেশী মিনহাজের মনোমানিল্য হয়। এ নিয়ে আব্দুস সোবহানের স্ত্রী গৃহবধূ তহুরা বেগমের সঙ্গে মিনহাজের মা মঞ্জুয়ারার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তহুরা বেগমের হাত থেকে তার ছেলে মাশরাফিকে ছিনিয়ে নেন মঞ্জুয়ারা। এরপর তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে আঙিনায় নিয়ে গাছের সঙ্গে আটকে রেখে মিথ্যা অজুহাতে তাকে মারপিট করেন।
এ সময় মঞ্জুয়ারার ছেলে মিনহাজ কোদাল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে বলে ভয়ভীতি দেখান। মঞ্জুয়ারার স্বামী সাইদুল ইসলাম নির্যাতন না থামিয়ে তার স্ত্রী-ছেলেকে উসকানি দেন এবং নির্যাতনে সহযোগিতা করেন। নির্যাতনে শিশু মাশরাফির কান্না ও চিৎকারে স্থানীয়রা উপস্থিত হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। ঘটনার পর থেকেই শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শিশুটির মা গৃহবধূ তহুরা বেগম বলেন, মঞ্জুয়ারার ছেলে মিনহাজের বয়স প্রায় ২০ বছর। আমার ছেলের বয়স ৫ বছর। প্রতিবেশী হওয়ায় তারা খেলাধুলা করত। খেলাধুলা নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমানিল্য হয়। এ নিয়ে মিনহাজের মা মঞ্জুয়ার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আমার বাড়ির ভেতর থেকে ছেলেকে মঞ্জুয়ারা ছিনিয়ে টেনে-হিঁচড়ে আঙিনায় নিয়ে গাছের সঙ্গে আটকিয়ে মারধর করে। ঘটনার পর ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; কিন্তু এখন ঘুমের মধ্যেও ছেলে ভয় পাচ্ছে ও চিৎকার করছে। এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ধামইরহাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলামিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় মামলা দিতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফ হাসান বলেন, গত শনিবার ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রথমে আঘাতের স্থানগুলোতে ফুলা ভাব ছিল, এখন কিছুটা কমেছে। এছাড়া শরীরে আঁচড়ের মতো দাগ আছে। বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ আছে।







মন্তব্য করুন