হার্টের চিকিৎসায় আরো এক ধাপ এগিয়ে চমেক হাসপাতাল

0
1

দেবাশিষ গোলদার,চট্রগ্রাম:

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক ইন্ট্রাভাসকুলার আলট্রাসাউন্ড সিস্টেম (আইভাস)। হার্টে রিং পরানোর প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি সঠিক ভাবে রিং বসলো কিনা, তা যাচাই করা যাবে অত্যাধুনিক এ যন্ত্রে। হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন- সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রামে প্রথম এই মেশিন যুক্ত হচ্ছে চমেক হাসপাতালে। ঢাকার সরকারি দুয়েকটি হাসপাতালে এ মেশিন থাকলেও সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতালে এতদিন এই মেশিন ছিল না। হৃদরোগ বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে অত্যাধুনিক এ মেশিন কিনছে চমেক হাসপাতাল প্রশাসন। এ তথ্য নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, এটি কার্ডিওলজির লেটেস্ট একটি মেশিন। কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমরা এই মেশিনটি কিনছি। মেশিনটি এরই মধ্যে বিভাগে চলে এসেছে। তবে মেশিনটি রিসিভিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অত্যাধুনিক এ মেশিনের দাম দেড় কোটি টাকার কিছু কম-বেশি। এই আইভাস মেশিনের সাথে আনুষঙ্গিক হিসেবে ফ্রেকশনাল ফ্লু রিজার্ভ (এফএফআর) নামে আরো একটি মেশিন রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন- রোগীর হার্টে ব্লক দেখা দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিং পরানোর (স্ট্যান্ট বসানোর) প্রয়োজন পড়ে। ক্ষেত্র বিশেষে ওষুধ দিয়েও এর চিকিৎসা করা হয়। যদিও ব্লকের সাইজ ও সংখ্যার উপর সেটি নির্ভর করে। অত্যাধুনিক এই আইভাস মেশিনের মাধ্যমে রোগীর হার্টের অভ্যন্তরে রক্তনালীর আলট্রসনোগ্রাম করা যায়। যা রক্তনালীর পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে আনে। এতে করে ব্লক দেখা দিলেও হার্টে রিং পরানোর প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, প্রয়োজন থাকলেও কোন সাইজের রিং পরাতে হবে, সেটি সহজে যাচাই করা যাবে। এমন তথ্য দিয়ে হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজোয়ান রেহান বলেন, শুধু রিং পরানোর আগে নয়। রিং বসানোর পরও সেটি সঠিকভাবে ও যথাপোযুক্ত স্থানে বসলো কিনা, তাও যাচাই করা যাবে এ মেশিনে। মোটকথা রিং পরানোর আগে যেমন কাজ দেবে, রিং পরানোর পরও মেশিনটি কাজ দেবে। বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশের আন্তরিক প্রচেষ্টার কল্যাণেই বিভাগে অত্যাধুনিক এ মেশিন যুক্ত হচ্ছে বলে জানান ডা. রিজোয়ান রেহান। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীরও বলছেন, এ মেশিন পাওয়ার পেছনে কার্ডিওলজির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশের ভূমিকা আছে। তার একান্ত আগ্রহ ও লেগে থাকার কারণেই সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রামের হাসপাতালে প্রথমবারের মতো এ মেশিন যুক্ত হচ্ছে। অত্যাধুনিক এই মেশিন সংযোজনের মাধ্যমে হৃদরোগের চিকিৎসায় চমেক হাসপাতাল আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন হৃদরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ। তিনি বলেন, ব্লক দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রে রিং পরানোর প্রয়োজন হয়। আবার রিং না পরিয়ে শুধু ওষুধ সেবনের মধ্য দিয়েও এই ব্লক দূর করা যায়। সেটি রক্তনালীর ফ্লু’র উপর নির্ভর করে। রিং না পরিয়ে শুধু ওষুধ দিয়ে ব্লক দূর করা সম্ভব কিনা, তা এই মেশিনে আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে সহজে জানা যাবে। এটি রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্যও বড় রকমের সুবিধা। চট্টগ্রামের বেসরকারি এক বা দুটি হাসপাতালে হয়ত এ সুবিধা আছে। কিন্তু আর্থিক অসঙ্গতির কারণে সবার দ্বারা বেসরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসা নেয়া সম্ভবপর নয়। সরকারি পর্যায়ে চমেক হাসপাতালে এ মেশিন সংযোজন গরীব রোগীদের জন্য আশীবার্দ স্বরূপ বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ।