পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে দেশের অর্ধেকেরও বেশি প্রবীণ

0
0

সময়ের পাতা ডেস্ক:

বাংলাদেশের এক চতুর্থাংশ প্রবীণ অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং দেশের অর্ধেকেরও বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। পুরুষের (২২ শতাংশ) তুলনায় নারীদের (২৮ দশমিক ৮ শতাংশ) মধ্যে অপুষ্টির হার বেশি।

১ অক্টোবর (শুক্রবার) বিশ্ব প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা বলছে, জীবনসঙ্গী-বিহীন (বিধবা, বিপত্নীক, অবিবাহিত) প্রবীণদের মাঝে অপুষ্টির হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ও পুষ্টিহীনতার ঝুঁকির হার ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রবীণদের অপুষ্টির জন্য চিহ্নিত প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বিষণ্ণতা, মুখ ও দাঁতের খারাপ স্বাস্থ্য, বিশেষ খাদ্য পরিহারের অভ্যাস এবং অসংক্রামক রোগের উপস্থিতি। বিষণ্ণতায় ভোগা প্রায় ৪০ শতাংশ প্রবীণ অপুষ্টিতে ভুগছেন।

এতে আরও বলা হয়, সারা বিশ্বেই অন্যান্যদের তুলনায় প্রবীণদের মধ্যে অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবীণের সংখ্যা আনুমানিক ১.৫ কোটি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালে সংখ্যাটি ৩.৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ১২৫ জন প্রবীণকে নিয়ে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

গবেষণা কাজে প্রধান গবেষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ডা. কে এম তৌহিদুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক গবেষক হিসেবে ছিলেন ডা. মো. খালেকুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

গবেষণায় বলা হয়, স্বাভাবিকের তুলনায় বিষণ্ণতায় ভোগা প্রবীণদের অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা ১৫ দশমিক ৬ গুণ বেশি। যেসব প্রবীণদের মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ, তাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অপুষ্টিতে ভুগছেন। মুখ ও দাঁতের সুস্বাস্থ্য থাকা প্রবীণদের তুলনায় মুখ ও দাঁতের খারাপ স্বাস্থ্যযুক্ত প্রবীণদের অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা ৭ দশমিক ৩ গুণ বেশি। মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, এবং ডিম জাতীয় খাবার পরিহার করায় প্রবীণদের মধ্যে অপুষ্টি এবং পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ছে। স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত প্রবীণদের মধ্যে অপুষ্টির হার বেশি।

এ গবেষণায় সুপারিশসমূহ হলো : প্রবীণদের অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টি বিষয়ক সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা, যেখানে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রবীণদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে তাদের মানসিক ও মুখের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে জোর দিতে হবে। প্রবীণদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তাদের সঠিক খাদ্যভাস নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন গবেষণা কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক-মানের গবেষণা কর্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, প্রিভেনটিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ শরীফুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।