খাবার জোটেনা আবার মাস্ক?

0
2

এলাহীনুর, সদর প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: করোনায় পরিবার পরিজন নিয়ে একবেলা খাবার জুটানোই কষ্ট, মাস্ক কিনবো কী দিয়ে’−মুখে মাস্ক নেই কেন জিজ্ঞাসা করতেই জবাব দিলেন মসলিম মিয়া (৪৫)। তিনি আরও বলেন, ‘গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে হাতে কাজ কাম নাই।

হাতের ওপর দিয়ে চলে সংসার। পরিবারের পাঁচ সদস্যের একবেলা ভালো খাবার জুটে না, মাস্ক কিনবো কী দিয়ে?’

শুধু মসলিম মিয়াই নন ওই এলাকার সফিরউদ্দিন ও আবুল হোসেনও জানান একই রকম কষ্টের কথা। তাদের মতে, আল্লাহ যাকে দিবে তারই এই রোগ হবে। যারা বসে বসে থাকে আর খায়, তাদেরই এই রোগ হবে।

করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই তা করেন না। তবে শহরের মানুষ সচেতন হওয়ায় তাদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। শতভাগ না হলেও শহরের কিছু মানুষ মাস্ক পরেন। আবার অনেকেই মাস্ক পরছেন থুতনিতে। কেউ কেউ রেখেছেন পকেটে।

শুধু মাস্ক ব্যবহার নয়, স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মানলেও হাটবাজার, দোকানপাট, সড়ক মহাসড়কে খুব কমই মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। হাত ধোয়া বা জীবাণুনাশক স্প্রে করাও হচ্ছে না।

জেলা উপজেলা শহরসহ বড় বড় হাটবাজারে সপ্তাহে দু’দিন করে গরুর হাট বসছে সেখানেও অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যাচ্ছে না। কেউ বলছেন পরা হয় না কেউ বলছেন অভ্যেস নেই আবার কেউ বলছেন পরি মাঝে মাঝে।

সচেতনতার অভাব, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত না হওয়া, মাস্কের দাম বৃদ্ধি, সহজে না পাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন মাস্ক পরা সচেতন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের সাতখামার গ্রামের সলেমান আলী জানান, সবসময় মাস্ক পরে থাকা যায় না। কোনও কোনও সময় মনে হচ্ছে দম (শ্বাস-প্রশ্বাস) নেওয়া যায় না।

জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার শ্রমিক আনারুল বলেন, ‘করোনাকে ভয় করলে চলবে ভাই? আমাদের তো কাজকাম করে খেতে হবে। কাজ করতে গেলে লোকজনদের সঙ্গে থাকতে হবে। কাজ করি টাকা পাই কষ্ট করে সংসার চালাই। করোনাকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই।’

শহরের ইসলামবাগ এলাকার আবুল বাশার জানান, করোনা সংক্রমণ বাড়লেও লোকজনদের মধ্যে করোনা ভীতি অনেকটাই কমেছে। একারণে অনেকেই মাস্ক না পরা বা সামাজিক দূরত্ব মানছেন না।

জেলার সদর উপজেলার বলেয়াপাড়া এলাকার ইউসুফ আলী জানান, সরকার একদিকে সবকিছু স্বাভাবিক করে দিয়েছে অন্যদিকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মানাতে বাধ্য করছে। একারণে লোকজনের মধ্যে করোনা ভীতি কমেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত পঞ্চগড়ে ৪২২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ২৯৭ জন। মারা গেছেন ৮ জন।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব মানা অত্যন্ত জরুরি। মাস্ক পরা ও সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানের কোনও বিকল্প নেই। তবে মানুষের মধ্যেও সচেতনতা থাকতে হবে।