শ্রীপুরের মিষ্টি কাঁঠাল দেশের চাহিদা পূরনের পরেও বানিজ্যিক রপ্তানি বেড়েছে বিদেশে

0
7

রাজীব প্রধান, (শ্রীপুর প্রতিনিধি)গাজীপুরঃ-

গাজীপুরকে বাংলাদেশের কাঁঠালের রাজধানী বলা হয়। আর এই

কাঁঠালের রাজধানী যে গাজীপুর, তা এক বাক্যে সবাই জানে। মৌসুমী ফলের মৌ মৌ গন্ধের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে জাতীয় ফল কাঁঠাল। পথের ধারে অস্থায়ী কিংবা বাজারের স্থায়ী দোকানে সাজানো রয়েছে রসালো এই ফল। আর তাতে আকৃষ্ট হয়ে কিনে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রায় সব এলাকায় দেখতে পাওয়া যায় কাঁঠাল। এখানকার স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিনই বসে কাঁঠালের হাট। কথিত আছে, ফলের জন্য বিশেষ করে কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত শ্রীপুরের জৈনা বাজার। কেউ কেউ আবার ‘কাঁঠালের রাজধানী’ও বলে থাকেন। এ অঞ্চলে প্রচুর কাঁঠাল দেখাযায় জৈষ্ঠ্যমাস ফলের মৌসুমে।

বাড়ির উঠানে কাঁঠাল, ঘরে কাঁঠাল, বাইরে কাঁঠাল, গাছে কাঁঠাল, গাছের তলায় কাঁঠাল- চারদিকে শুধু কাঁঠাল আর কাঁঠাল। বাজারজুড়ে কাঁঠালের স্তূপ। মহাসড়কের দু’পাশে স্তূপ আকারে পড়ে আছে হাজার হাজার কাঁঠাল। পাকা কাঁঠালের গন্ধ মৌ মৌ করে চারদিকে।

উপজেলার জৈনা বাজার, নয়নপুর বাজার, মাষ্টার বাড়ি বাজার,শ্রীপুর বাজার, গোসিংগা, বাজার,বরমী বাজার, কাউরাইদ বাজার, সাতখামাইর বাজার,সহ অন্যান্য বাজারে প্রতিদিনই বসে কাঁঠালের হাট।

প্রতিদিন ভোরে বাগান থেকে পাকা বা কাচা কাঁঠাল সংগ্রহ করে পুরুষরা তা বিক্রির জন্য ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি, টমটম, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশায় করে নিয়ে আসেন বাজারে।

শ্রীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, এ এস এম মুহিদুল হাসান জানান, শ্রীপুরে কাঁঠাল চাষ হয় ৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে।

মৌসুমের প্রতিদিনই ওই বাজারগুলোতে বিক্রি হয় লাখ লাখ কাঁঠাল। দিনে-রাতে প্রায় সব সময়ই চলে এ বেচাকেনা। তবে সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তাই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসে উপজেলার ওই বাজারগুলোর কাঁঠালের হাটে।

আর শ্রীপুরের কাঁঠাল নিয়ে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোতে। কাঁঠালের এই মৌসুমকে কেন্দ্র করে বাগান থেকে কাঁঠাল বাজারে আনা, কেনাবেচা, গাড়িতে ওঠানো-নামানোসহ এর সাথে জড়িত কয়েক হাজার লোক। আর হাজার হাজার মানুষকে ব্যস্ত থাকতে হয় কাঁঠালের এই মৌসুমের সময়কে ঘিরেই।

কাঁঠাল পৃথিবীর ফলসমূহের মধ্যে আকারে বৃহত্তম। ভারতীয় উপমহাদেশ বিশেষত বাংলাদেশ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ কাঁঠালের উৎপত্তি স্থান হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার এটি অতি আদিম ফল। এ ছাড়া নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চায়না, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কাঁঠালের চাষ হয়। পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডা ও তানজানিয়া এবং সমগ্র ব্রাজিল ও ক্যারিবীয় দীপপুঞ্জের জ্যামাইকাতে কাঁঠাল পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সর্বত্রই কাঁঠাল পরিদৃষ্ট হয়। সাধারণত লালচে মাটি ও উঁচু এলাকায় এটি বেশি দেখা যায়। তবে মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং পার্বত্য এলাকায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭৬ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হচ্ছে এবং মোট উৎপাদন ১৭ লক্ষ ৫১ হাজার ৫৪৯ টন (সূত্র : কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর)। বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনে শীর্ষে ভারত, এরপরেই বাংলাদেশের অবস্থান।
কাঁঠালের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
কাঁঠাল পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী।
কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম। এ ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কম।
কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
পাকা কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ আছে, যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হলো ভিটামিন ‘সি’। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাঢ়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন ‘সি’।
কাঁঠালের বিদ্যমান আইসোফ্লাভোনস, এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস আলসার, ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম।
কাঁঠালে আছে বিপুল পরিমাণে খনিজ উপাদান ম্যাঙ্গানিজ, যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কাঁঠালে বিদ্যমান ভিটামিন b6 হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং আয়রন দেহের রক্তাল্পতা দূর করে। ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয় এবং অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়। গর্ভবতী মহিলারা কাঁঠাল খেলে স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ ফল আঁশালো বিধায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।