রাণীনগরের মাঠে মাঠে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ

0
0

আওরঙ্গজেব হোসেন রাব্বী, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। যদি পুরো আবহাওয়া সরিষা চাষের অনুক’লে থাকে তাহলে এবার সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। আর যদি সরিষার বর্তমান বাজার অব্যাহত থাকে তাহলে এবার
সরিষার দামও ভালো পাওয়ার আশা করছেন রাণীনগরের সরিষা চাষীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত জেলা নওগাঁ। নওগাঁয় উৎপাদিত চালের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। কিন্তু লাগাতার ধানের দাম না পাওয়ায় কৃষকরা ছুটছেন লাভজনক
ফসল চাষের দিকে। তাই চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২হাজার ৯শত ৫০হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই বেশির ভাগ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। তবে আগাম জাতের সরিষায় ফুল আসাও শুরু করেছে। এমন লাভজনক তৈল জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি সরিষা চাষের মৌসুমে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের ২হাজার ২শত জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সঙ্গে বাজারে দামও ভালো পাবেন সরিষা চাষীরা এমনটিই আশা করা হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সরিষা চাষী বেলাল হোসেন বলেন, কম খরচ, কম পরিশ্রম আর কম সময়ে সরিষা চাষ করা যায় বলে এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে ৬-৮মন হারে সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ সরিষা ৪হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই আমিও আশাবাদি যে এবার সরিষা চাষ করে আমার মতো কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক এক ইঞ্চি জমিও যেন পরে না থাকে সেজন্য উপজেলার সকল কৃষককে আমরা জমি ফেলে না রেখে বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করে চলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় তৈল জাতীয় ফসল সরিষা চাষে এবার সর্বাধিক কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। গত বছর স্থানীয় বাজারগুলোতে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করছেন।
আবার সরিষা চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তিও বৃদ্ধি পায় আর সরিষা তোলার পর
পরই বোরো ধান রোপন করা সম্ভব। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে গত বছরের
তুলনায় এ বছর প্রত্যেক সরিষা চাষি অধিক লাভবান হবেন বলে আমি শতভাগ
আশাবাদি।