বগুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণে এসআই ক্লোজড

0
7

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:

বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ভূয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে মাইক্রোবাস চালানোর ঘটনায় বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শককে(এসআই) গোলাম রসুলকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত(ক্লোজড) করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ওই এসআইয়ের ব্যবহার করা মাইক্রেবাসটি পুলিশ জব্দ করেছে। ক্লোজড পুলিশের এসআই গোলাম রসুল দু’মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বগুড়া সদর থানায় এসে যোগ দেন। জানা গেছে, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চকযাদু রোডে দৈনিক করতোয়া অফিসের সামনে তিনি যানজটে আটকা পড়েন। এসময় দেখতে পান সামনে রাস্তার ওপরে সাদা রঙের একটি মাইক্রেবাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে গিয়ে গাড়ি চালককে মাইক্রোবাসটি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বলেন। এতে চালকের আসনে থাকা সাদা পোশাকের ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকেই প্রেসকক্লাবের সভাপতির মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এতে ব্যর্থ হয়ে ওই ব্যক্তি ফিল্মি কায়দায় মাইক্রেবাসের দরজা লাথি দিয়ে খুলে নেমে গিয়ে মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেন। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রেসক্লাব সভাপতিসহ পথচারিরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। এসময় তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ি সরিয়ে নিতে বলার কারণে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। পরিস্থিতির বিষয়টি প্রেসক্লাব সভাপতি তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরিকে অবহিত করলে ওই ব্যক্তি চাবি ফিরিয়ে দিয়ে চলে যান। বিষয়টি বগুড়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মিরা জানার পর পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা বিষয়টির প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন সংবাদ কর্মি পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের নম্বর (ঢাকা-মেট্রো-চ-৭১-৩২৭৩) বিষয়ে বিআরটিএ-তে গিয়ে সন্ধান করেন। বিআরটিএ’র দফতর থেকে জানানো হয়, তাদের অনলাইন সার্ভারে এ নাম্বারের গাড়ির কোনতথ্য নেই। কারণ ‘চ-৭১’ সিরিয়ালের কোন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বিআরটিএ-তে হয়নি। যদিও বগুড়ার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন চ সিরিয়ালের গাড়ি সাধারণত অ্যাম্বুলেন্সে ব্যবহৃত হয়, তবে ওই নম্বরটি আদৌ সঠিক কি-না তা যাচাই করতে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। বগুড়া পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার পর পুলিশ সুপার পুরো বিষয় জানার পর তাৎক্ষণিক গোলাম রসুল নামে ওই এসআইকে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে ওই পুলিশ সদস্যের এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরির নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে পুলিশ সুপার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে জানান।