খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে একাকার জেলে পরিবারগুলো

0
1

খালিদ আহমেদ রাজা:

রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ার জেলে পরিবারগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ায় এমনিতেই তাদের খোলা আকাশের নিচে অমানবিকভাবে দিন যাপন করতে হচ্ছে, তার ওপর আবার যোগ হয়েছে ভারি বর্ষণ

মাঝিপাড়ার রীতা রানী বিয়ের পর স্বামীসন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকেন। তার স্বামী রওশন চন্দ্র দাস। রণিচন্দ্র নামে তাদের ৫ বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

রীতা রানী বলেন, ‘স্বামীর বাপের বাড়ির খুব গরীব। মোর বাপও গরীব। তাও স্বামীক নিয়া বাপের বাড়িতেই থাকো। ছোট একনা টিনের কুটরি ঘর বানাই। সেই ঘরোত কষ্ট করি আছু। স্বামী নদীত মাছ মারে। বাজারোত ব্যাচে।’

ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ধরে পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে চতরাগামী পাকা রাস্তা। সেখান থেকে দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই আখিরা নদীর ওপর ব্রিজ। ব্রিজ পার হয়ে হাতের বামপাশে নদীর তীরে মাঝিপাড়া গ্রামের অবস্থান। এ গ্রামে স্বামী-সন্তান নিয়ে বাস রীতা রানীর।

তিনি আরও বলেন, ‘এনকা করি হামরা সংসার চালাই। কিন্তু, হামার বাড়িত আগুন নাগেয়া দিলো। আগুনে বাড়ির থাকার টিনের বেড়ার ঘর কোনা পুড়িয়া গেইল। এখন হামার থাকার জায়গা নাই। সেই দিন থাকি খোলা আকাশের তলে আছি। এখন কয়দিন ধরি ফির এক নাগাড়ে ঝড়ি হওচে। একে তো খোলা আকাশের তলে, সেই সাথে ঝড়ি হওচে। ছইল-পইল নিয়া ঝড়িত ভিজি কোনোমতে জীবন কাটাওছি।’

তার স্বামী রওশন চন্দ্র বলেন, ‘হামরা খুব কষ্টে আছি, দাদা। মোর পরিবার, তার সাথে শ্বশুরের বাড়ির মানুষ। সউগ সুদ্দায় (সবসহ) ১৪/১৫ জন জলোত ভেজোছি।’

উল্লেখ্য, ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা মাঝিপাড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।