ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় প্রাণ গেলো আরো তিনজনের। জেলা শহর ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত!

0
6

ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সময় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন হরতাল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ মার্চ) দুপুর নাগাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তারা।

নিহতরা হলেন- সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া গ্রামের সুফি আলীর ছেলে আল আমীন (১২) সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাটিহাতা গ্রামের আলতাফ আলীর ছেলে হাদিস মিয়া ওরফে কালন (২৩) । নিহত অন্য যুবকের (৪০) পরিচয় এখনো অজ্ঞাত রয়েছে। এ নিয়ে দেশে গত কয়েক দিনের সহিংসতায় ১৩ জনের মৃত্যু হলো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন এ বিষয়ে আমাদের জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন এবং তারা তখন আশংকাজনক অবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কিসের ফলে এই আঘাত সেটি ময়নাতদন্ত না করলে বলা যাবে না। এর মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রানা নুরুস শামসও তিন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর আমাদের নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে শিশু আল আমীনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়। আর হাদিস মিয়া পথিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা সদরের পশ্চিম মেড্ডা ও সরাইলের খাটিহাতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হরতাল সমর্থনকরীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আজ হরতালকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মিলনায়তন, জেলা গণগ্রন্থাগার, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আয়োজিত উন্নয়ন মেলার অর্ধশত স্টল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের প্রধান ফটক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কার্যালয় ও বাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব ভবনেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধরা।এসময় হেফাজত কর্মীদের হামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি ও আমাদের নতুন সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবুল হাসনাত মো. রাফি মারাত্মকভাবে আহত হন। উল্লেখ্য রিয়াজ উদ্দিন জামির মাথায় ৬টি সেলাই লেগেছে। এছাড়া এটিএন নিউজের ক্যামেরাপার্সন সুমন রায় গতকাল শনিবার (২৭ মার্চ) সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়ে সহিংসতার স্বীকার হন।

এছাড়া সরাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে সংঘর্ষে ওসি সহ ৫ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এ সময় জখম হয় আরো প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্যের। অন্যদিকে জেলার আশুগঞ্জ উপজেলায় রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনের এক পর্যায়ে টোলপ্লাজা সহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও আগুন দেয় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা।