বগুড়ার হিরো আলম বিক্রি হবে ৮ লাখে

0
2

কুরবানীতে এবার বগুড়ার হিরো আলমের দাম উঠেছে ৮ লাখ টাকা। লম্বায় ৮ ফুট, উচ্চতায় সাড়ে ৫ ফুট এবং ওজন ৯ শ’ কেজির এই হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাড়টির নাম বেশ শখ করেই দিয়েছেন এর মালিক মো. জিয়াম।কালো এবং সাদা রংয়ের ষাড়টি এবার কোরবানি উপলক্ষে বিক্রি করা হবে।

এরই মধ্যে ষাঁড়টি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। ষাড়টির মো. জিয়াম বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী মধ্যপাড়ার যুবক জিয়াম হামদর্দ ইউনানী মেডিক্যালে কলেজ পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি বাবা’র ব্যবসায় সহযোগিতা এবং গরু পালন করছেন। তিনি বলেন, তার বাবা দাদা’রা পূর্ব থেকেই বাড়িতে গরু পালন করতেন। ‘হিরো আলম’ তাদের বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছে। বয়স প্রায় ৪ বছর। তবে তাদের বাড়িতে গরু পালন করলেও এত বড় কখনও করা হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই গরু বিক্রি করা হতো। যে কারণে জন্মের কয়েক মাস পরই জিয়াম তার বাবাকে বলেন, তিনি ষাড়টি পালন করতে চান। তার বাবা রাজি হয়ে গেলে শখ থেকেই ষাড়টিকে লালন পালন শুরু করেন।

ষাড়টির পরিচর্যায় কোনো ধরনের ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। জিয়াম জানান,ষাড়টির পরিচর্যায় কোনো ধরনের ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ব্যবহার করেননি। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস, খৈল, ভুষি, চালের কুড়া, ভুট্টা, ভাতসহ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে লালন পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত দুই বার করে গোসল করানো, পরিষ্কার ঘরে রাখা ও রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়াসহ প্রতিনিয়ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ষাড়টির যে ওজন এত বেশি হবে বুঝতে পারিনি। হঠাৎ করেই ষাড়টি এতটা স্বাস্থ্যবান হয়েছে। ষাড়টি পালন করতে করতে তার ওপর অনেক মায়া জন্মে গেছে। আর এ কারণে ভালোবেসে ষাড়টি’র নাম দিয়েছি ‘হিরো আলম’।

‘ষাড়ের নাম হিরো আলম দিয়েছেন। হিরো আলম বিষয়টাকে কি তিনি সহজভাবে নেবেন বলে মনে করছেন?’ এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেখুন হিরো আলমকে তো আর আমি খাটো করিনি। তাছাড়া আমি তার একজন ভক্ত। আমি তাকে পছন্দ করি বলেই ভালোবেসে আমার শখের গরুটির নাম হিরো আলম দিয়েছি। ‘হিরো আলমের কোন বিষয়টি ভালো লাগে’- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হিরো আলম যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা অনুপ্রেরণার। অবশ্যই সবাই তাকে সেভাবে গ্রহণ করেননি হয়তো। তবে তাকে দেখেছি তার অবস্থান থেকে করোনা’র সময় সে মানুষকে সহযোগিতা করেছে, এবার বন্যায় করলো। সবচেয়ে বড় কথা তার বিরুদ্ধে যেই যতো কথা বলুক তিনি সেটা কানে নেন না।

ষাড়টিকে বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চান বলেও জানান তিনি। জিয়াম জানান, তিনি ষাড়টিকে বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চান। যে কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি ও ষাড়টির বিবরণ দিয়ে বিক্রি করতে চাচ্ছেন। তিনি ষাড়টির দাম চেয়েছেন ৮ লাখ টাকা। তিনি ধারণা করছেন ৭ লাখ টাকার উপরে তিনি বিক্রি করতে পারবেন।