জবই বিলের জলে হাঁস নামার অপরাধে ১১৫টি হাস জবাই

0
230

স্টার্ফ রিপোর্টারঃ নওগাঁর সাপাহার জবই বিলের জলে হাঁস নামার অপরাধে নিরহী তিন হাঁস খামারীর ১১৫টি হাঁস ধরে এনে রাতে জবাই করে খেয়ে ফেলেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফাহাদ পারভেজ বসুনিয়া। অসহায় খামারীর হাঁস খাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাহী অফিসারের সরকারী বাসভবনে।

জানা গেছে অতীতের ন্যায় উপজেলার বিল এলাকার কয়েকজন হাঁস খামারীর হাঁসগুলি বিলের পানিতে চরে বেড়ালে হঠাৎ করে বিলে মৎস্যচাষ প্রকল্পের লোকজন এলাকায় মাইকিং করে বিলে হাঁস চরানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এর পর হতে খামারীগন তাদের হাঁসগুলি বিলের পানি হতে কয়েশ গজ দুরে রেখে লালনপালন করতে থাকে। হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অসাবধানতা বশতঃ কিছু হাঁস বিলে নামলে বিলের পাহাদার নুরুল ইসলাম, সুলতান, দেলোয়ার হোসেন সহ কতিপয় লোক পাহাড়ী পুকুর গ্রামের খামারী আঃ গফুরের ৩৩টি, মুংরইল গ্রামের কাওসার আলীর ৩২টি ও গৌরীপুর গ্রামের নাদের আলীর ৫০টি ডিমপাড়া হাঁস সহ মোট ১১৫টি হাঁস ধরে এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের নিকট বেধে রাখে। সন্ধায় দরিদ্র হাঁস খামারী আঃ গফুর তার হাঁসগুলি ছাড়াতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এলে নির্বাহী অফিসার তাকে পুলিশে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পুলিশের ভয়ে অসহায় খামারী সেখান থেকে বাড়ী ফিরে আসে।

নির্বাহী অফিসার খামারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ না করে রাতে অফিসের লোকজন দিয়ে নির্বাহী অফিসার হাঁসগুলি জবাই করে কয়েকজন অফিসারকে ও থানায় কিছু জবাই করা হাঁস পাঠিয়ে অবসিষ্ট হাঁসগুলি ফ্রিজজাত করে রাখে। প্রতিদিন ডিম পাড়া হাঁস হারানো খামারীগন বলেন যে, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তারা এলাকার দাদন ব্যাবসায়ী ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা হতে লোন করে তাদের খামারগুলি প্রতিষ্ঠিত করে ছিল। ডিমপাড়া হাঁসগুলি হারিয়ে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফাহাদ পারভেজ বসুনিয়ার সাথে মোবাই ফোনে কথা হলে তিনি জানান যে, তারা আইন অমান্য করেছে তাই হাঁসগুলি ওই খামারীদের আর ফেরত দেয়া হবেনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এধরনের অসহায় মানুষের হাঁস ধরে এনে খেয়ে ফেলার ঘটনাটি ন্যাক্কার জনক কাজ বলে এলাকার অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।