টঙ্গীর বহুল আলোচিত সাইফুল ইসলাম সম্রাট হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করল পিবিআই, গাজীপুর।

0
12

রাজীবপ্রধান, গাজীপুর ঃ-গাজীপুর মেট্টোপলিটন এর টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া এলাকার বহুল আলোচিত সাইফুল ইসলাম সম্রাট হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার করলো পিবিআই গাজীপুর।

টঙ্গীর বহুল আলোচিত সাইফুল ইসলাম সম্রাট হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করল পিবিআই, গাজীপুর।
টঙ্গীর বহুল আলোচিত সাইফুল ইসলাম সম্রাট হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করল পিবিআই, গাজীপুর।

মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ১। আসাদুজ্জামান মানিক (২৬), পিতা-মৃত ইউসুফ আলী, পালক পিতা-মোঃ সালাউদ্দিন, সাং-দীঘিরপাড় লাহারপুর, সাতগাঁও, থানা-শ্রীমঙ্গল, জেলা-মৌলভীবাজার, এ/পি সাং-আলম মার্কেট দত্তপাড়া, থানা-টঙ্গীপূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর মহানগরকে ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রাত অনুমান ০৩.০০ ঘটিকায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন সাতগাঁও দীঘিরপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামী ২।

নূর আলম @ আলম (৩০), পিতা-আফিল উদ্দিন বেপারী, সাং-হাজরাপুর (খোকন মেম্বারের বাড়ীর পাশে), থানা-সদর, জেলা-মাদারীপুর, এ/পি-শ্বশুর বিল্লাল হোসেন, হাজী মার্কেট দত্তপাড়া, থানা-টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুরকে ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ রাত অনুমান ০৩.৩০ ঘটিকায় টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকা থেকে এবং আসামী ৩। মোঃ রনি (৩৩), পিতা-সামসুদ্দোহা তালুকদার, সাং-বেশনাল, থানা-টঙ্গীবাড়ী, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, এ/পি. সাং-হাজী মার্কেট, টঙ্গী দত্তপাড়া, থানা-টঙ্গীপূর্ব, জিএমপি, গাজীপুরদেরকে ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ রাত অনুমান ০৪.২০ ঘটিকায় টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ইং ০৫/০৮/২০১৬ তারিখ রাত অনুমান ০৯.৪৫ ঘটিকায় সাইফুল ইসলাম সম্রাট (২৫), পিতা-মোঃ শামসুল হক, সাং-বাগিয়া (আমজাদ ড্রাইভার এর বাড়ীর নিকট), কোনাবাড়ী, থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর, এ/পি. সাং-দত্তপাড়া আলম মার্কেট, থানা-টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর এর মৃত দেহ অবস্থায় টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া আলম মার্কেটে গনেশ মাঠের পাঠে আবুল হোসেনের চায়ের দোকানের সামনে বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন,

দুই পায়ের রগ কাটা, পিঠে ডান পায়ের হাটু সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সংক্রান্তে নিহতের মাতা সাহেরা বেগম বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ১২ জন ও অজ্ঞাতনামা ০৪/০৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে তৎকালীন টঙ্গী মডেল থানায় মামলা নং-১০, তারিখ-০৬/০৮/২০১৬ ইং ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন।

মামলাটি জেলা পুলিশ ও মেট্টোপলিটন পুলিশ ০২ বৎসর ০২ মাস মাস তদন্ত শেষে ০৭ জন এজাহারনামীয় আসামী ও এজাহারবর্হিভূত ঘটনায় জড়িত ০৩ জন আসামীর পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা না পাওয়ায় এবং মামলার ঘটনায় জড়িত মূল আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করে বিজ্ঞ আদালতে টঙ্গী পূর্ব থানার অভিযোগপত্র নং-২৪ তারিখ-১৫/১০/২০১৮ ইং ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড দাখিল করেন। মামলাটি বিজ্ঞ আদালতের নিকট অধিকতর তদন্ত হওয়া জরুরী মর্মে প্রতিয়মান হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রণোধিত হয়ে অত্র মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই গাজীপুর জেলাকে তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।

ডিআইজি পিবিআই জনাব বনজ কুমার মজুমদার. বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধন ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এর সার্বিক সহযোগীতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান পিপিএম মামলাটি তদন্ত করেন।

আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এজাহারনামীয় আসামী মোঃ মোফাজ্জল, আসিফ মিয়া, হুমায়ুন, কাইয়ুম সহ অন্যান্য আসামীরা ও ভিকটিম সাইফুল ইসলাম সম্রাট একই এলাকায় বসবাস করতো ও মাদক সেবন করতো। এদের মধ্যে আসামী মোফাজ্জল, আসিফ মিয়া, মোঃ মোফাজ্জলের বোন জামাই গেদা আনোয়ার মাদক বিক্রয় করতো। ভিকটিম সম্রাট মাঝে মধ্যে মোঃ মোফাজ্জল, আসিফ মিয়া ও গেদা আনোয়ারের নিকট হতে জোর পূর্বক মাদক বিক্রয়ের টাকা নিত।

এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ভিকটিম সম্রাট ঘটনার কয়েকমাস পূর্বে এজাহারনামীয় আসামী মোঃ মোফাজ্জল এর পায়ের রগ ও আসামী মোঃ মোফাজ্জল এর বোন জামাই গেদা আনোয়ার এর হাতের কব্জি কেটে দেয়। এই ঘটনার জের ধরে অত্র মামলার ঘটনার দিন গত ইং ০৫/০৮/২০১৬ তারিখ রাত ০৯.৪৫ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ মোফাজ্জল, গ্রেফতারকৃত আসামী আসাদুজ্জামান মানিকের টঙ্গী দত্তপাড়া আলম মার্কেটস্থ বাসায় বসে পরিকল্পনা করে ভিকটিম সম্রাটকে সুকৌশলে মদ খাওয়ার কথা বলে ডেকে এনে

গ্রেফতারকৃত আসামী আসাদুজ্জামান মানিক সহ ঘটনায় জড়িত আসামীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে ও বাইরিয়ে বাম হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন কাটা রক্তাক্ত জখম, দুই পায়ের রগকাটা জখম, পিঠে পাঁচ স্থানে কাটা রক্তাক্ত জখম, ডান পায়ের হাঁটুতে কাটা, বাম পায়ের হাঁটুতে কাঁটা, বাম পায়ের গোড়ালিতে কাটা রক্তাক্ত জখম সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে ঘটনাস্থলে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন আসামীরা প্রত্যেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। ভিকটিমকে মাদকের টাকার ভাগ না দেওয়ায় ভিকটিম সম্রাট মামলার এজাহারনামীয় আসামী মোফাজ্জলকে ঘটনার কিছুদিন আগে পায়ের রগ কেটে দেয় এবং মোফাজ্জলের বোন জামাই গেদা আনোয়ারের হাতের কব্জি কেটে দেয়।

এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ঘটনার দিন আসাদুজ্জামান মানিক এর বাড়ীতে বসে মদ পান করে আসামীরা সম্রাটকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ঘটনাস্থলে সম্রাটকে মদ খাওয়ার কথা বলে সম্রাটকে ডেকে এনে ঘটনাস্থলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সম্রাটের হাতের কব্জি পায়ের রগ কেটে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মামলাটি জেলা পুলিশ ও পরবর্তীতে মেট্টোপলিটন পুলিশ দীর্ঘ সময় তদন্ত করে বেশ কিছু অভিযুক্ত আসামীদের নাম ঠিকানা না পাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রণোধিত হয়ে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করে।

পিবিআই প্রায় দেড় বৎসর তদন্ত করে মামলার মূল আসামী ও পরিকল্পনাকারী আসাদুজ্জামান মানিককে মৌলভী বাজার শ্রীমঙ্গল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যা কান্ডে জড়িত আছে মর্মে স্বীকার করে এবং অন্যান্য আসামীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। তার তথ্যের ভিত্তিতে মামলার ঘটনায় জড়িত আসামী ১। মোঃ রনি ও ২।

নূর আলম @ আলমকে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়। । তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও পুলিশ রিমান্ডের আবেদন সহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মূলত মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়।

আসামী আসাদুজ্জামান মানিক (২৬), পিতা-মৃত ইউসুফ আলী, পালক পিতা-মোঃ সালাউদ্দিন, সাং-দীঘিরপাড় লাহারপুর, সাতগাঁও, থানা-শ্রীমঙ্গল, জেলা-মৌলভীবাজার, এ/পি সাং-আলম মার্কেট দত্তপাড়া, থানা-টঙ্গীপূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর মহানগরকে ইং ০৮/০৯/২০২১ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে উক্ত আসামী নিজেকে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তা ঃ পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান পিপিএম, পিবিআই গাজীপুর জেলা। তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ও পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ, পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।