
রাজীব প্রধান, শ্রীপুর গাজীপুর প্রতিনিধিঃ বিলুপ্ত নীল গাইয়ের শাবক নিয়ে উচ্ছসিত গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

শিকারীর লোভ আর বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় এক সময় দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় নীলগাই। তবে নীল গাইয়ের বংশ বিস্তার নিয়ে আশাবাদী গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ। কারণ এরই মধ্যে পার্কে জন্ম নিয়েছে নীল গাইয়ের দুটি শাবক। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন জন্ম নেয়া শাবক দুটি সুস্থ্য এবং সবল রয়েছে। নীল গাই ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় আকৃতির এন্টিলোপ।
ভারত,পাকিস্তান, নেপাল ও যুক্তরাষ্ট্রে নীল গাই বেশি দেখা যায়। তবে এটি দেশের বিলুপ্ত প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম একটি প্রাণী।বনবিভাগ ও পার্ক কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের আগে দেশে নীল গাইয়ের বিচরণ ছিলো। তৃণভোজী এ প্রাণীটি শিকারীদের লোভী মানসিকতা,জবাই করে মেরে ফেলা এবং বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। নীল গাইয়ের বংশবিস্তার ও লালন পালনে যত্নশীল হয়ে উঠেছে পার্ককর্তৃপক্ষ। নীল গাই এর নতুন শাবকের জন্ম হওয়া বেশ উচ্ছ্বসিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃতবিবুর রহমান।
তিনি এই বিষয়ে বাংলাদেশ টুডে কে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়া নীলগাইয়ের একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং অন্যটিকে নওগাঁ জেলায় শিকারীদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া দুটি পুরুষ ও মাদি নীল গাই সংগ্রহ করে নিয়ে আসে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ। সেখানে খুব যত্নের সাথেই তাদের পরিচর্যা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে দুটি নীল গাই থেকে গত ১ আগষ্ট জন্ম
নেয় দুটি শাবক।পার্কের লোকজন এবং কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে মা ও বাবার সাথে অবাধ বিচরণ করছে শাবক দুটি। পার্ক কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও যত্নের ফলে শাবক দুটি সুস্থ্য ও সবল রয়েছে। বিলুপ্ত এ প্রাণীটির বংশ বিস্তারের আশার আলো দেখছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ। পুরুষ নীল গাই দেখতে গাঢ ধূসর, অনেক সময় নীলচে আভা দেখা যায় বলে একেও নীলগাই নামকরণ করা হয়েছে। পুরুষ নীল গাই ৫২-৫৮ ইঞ্চি এবং মাদি নীল গাই বাদামী রঙের হয়ে থাকে। এদের গর্ভধারণ কাল ২৪৩ দিন এবং একসাথে ১-৩টি বাচ্চা হয়।





