স্ত্রীর অধিকার হতে বঞ্চিত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতিকর ছবি পোস্ট নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন এক নির্যাতিত নারী।

0
115

মাহামুদুল কবির (নয়ন)

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ।

মোছাঃ মুক্তা আক্তার (২৭) পিতা: মোঃ হানিফ হাওলাদার, মাতাঃ: ঝর্না বেগম,সাং-বড় কুতুবপুর, ডাক: কুতুবপুর,থানা: সারিয়াকান্দি, বগুড়া জেলার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি বিগত ২৫/১০/২০২০ ইং তারিখে স্বামী মোঃ সোহাগ মন্ডল (৩২), পিতা: মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, মাতা: ফাতেমা বেগম, সাং-কোরাপাড়া, পোস্ট: বানিয়াকান্দর, থানা: ঝিনাইদহ সদর, জেলা: ঝিনাইদহ, এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। চট্রগ্রাম ইপিজেডে বিয়ের পর ১ম দিকে ১/২ মাস স্বাভাবিকভাবে সংসার করেন তারা। হটাৎ স্বামীর হাব-ভাব চলাফেরা ও আচার-আচরণে সন্দেহপৃর্বক মুক্তা আক্তার জানতে পারে তার স্বামীর পূর্বের বিবাহিত এক স্ত্রী ও এক সন্তান আছে।এ নিয়ে মুক্তা আক্তার কে প্রচুর মারধর করে ফলে স্ত্রীর শরীরে আঘাত হয় এবং মানসিক টর্চার করে। এরপর মুক্তা আক্তারকে,চট্রগ্রাম রেখে স্বামী সোহাগ মন্ডল ৮আনা সোনার আংটি, দেড় ভরি চেইন,১ভরি হাতের বালা নিয়ে তার বাড়ি ঝিনাইদহ চলে যায়। এ অলংকার গুলো তার কষ্টের পারিশ্রমিক টাকা দিয়ে জুড়িয়েছিল বলে কেঁদে কেঁদে বললে ফোনে,স্বামী সোহাগ মন্ডল উল্টো খারাপ ভাষায় গালাগালি ও হুমকি প্রদর্শন করেন স্ত্রীকে। স্ত্রী চট্রগ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে স্বামী কিছু বিবৃতিকর ছবির পোস্ট দেখিয়ে ব্লাক মেইল করে টাকা দাবি করে স্ত্রীর কাছে। স্ত্রী মানসম্মান ও সংসার এর কথা ভেবে বিকাশের মাধ্যমে ৩০হাজার টাকা প্রদান করেন স্বামী সোহাগ মন্ডলকে।
পরপর ঠিক এভাবে আবার টাকা দাবি করলে স্ত্রী আর টাকা দিতে পারবে না বলে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর রেগেবেগে স্বামী সোহাগ মন্ডল ১০/০১/২০২১ ইং তারিখ ঝিনাইদহ থেকে চট্রগ্রাম যায় স্ত্রীর কাছে। চট্রগ্রাম যাওয়ার পর ২দিন ভালো স্বাভাবিক ছিলো। হটাৎ আবার তার আচরণ পরিবর্তন দেখা যায়। চট্রগ্রাম থাকা অবস্থায় ব্যবসার কথা বলে স্ত্রীর কাছ থেকে নগদ ৫৫হাজার টাকা ও ১২আনা অলংকার নিয়ে রাতে তৎক্ষনাৎ ঝিনাইদহ পালিয়ে যায়। এরপর স্বামী সোহাগ মন্ডল সোসাল মিডিয়ায় একটি ফেসবুক একাউন্ট খুলে কিছু বিবৃতিকর ছবি পোস্ট করে আবার টাকার জন্য ব্লাকমেইল করে স্ত্রীকে। এমতাবস্থায় স্ত্রী মুক্তা আক্তার টাকা দিতে আবার অনিচ্ছা প্রকাশ করলে স্বামী সোহাগ, স্ত্রীকে কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে দিবে না এবং খারাপ লোকজন নিয়ে গায়েব করে দিবে বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেন। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা ও নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছেন স্ত্রী। এ ছাড়া স্ত্রী জানিয়েছেন তার স্বামী সোহাগ মন্ডলের বিভিন্ন সন্ত্রাসী অপকর্মের মামলা রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী সোহাগ মন্ডল সম্পর্কে ঝিনাইদহে অনুসন্ধান করলে একুশে ETV সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা যায় ২৫শে জুন ২০১৯ ইং তারিখে ঝিনাইদহ সদরে অস্ত্র সহ সোহাগ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,
তার নামে বিভিন্ন থানায় চুরি ডাকাতি সহ ৬টি মামলা রয়েছে। স্ত্রী মুক্তা আক্তার ও জানিয়েছেন ঝিনাইদহ সদর কোর্টে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।