সকালে স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত, দুপুরে আবারও ভাঙন

0
1

মোঃ শরিফুল ইসলাম (সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি) : সকালে স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত, দুপুরে আবারও ভাঙন। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সদরের দয়ারঘাট এলাকায় ভেঙে যাওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতের পর বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুরে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে তা আবারও ভেঙে গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে এই বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আশাশুনি উপজেলা সদরের চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাউবো’র বিকল্প রিং বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হয়ে উপজেলা সদর ইউনিয়নের দয়ারঘাট, দক্ষিণ জেলেখালী, আশাশুনি সদরের ইউনিয়নের চারটি গ্রামের চার শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। পানিতে ভেসে গেছে দুই শতাধিক মৎস্য ঘের ও শতাধিক বিঘা ফসলি জমি। সেখানকার প্রধান প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে প্লাবিত এলাকার মানুষ।
তারা আরও জানান, আম্ফানে দয়ারঘাট ও জেলেখালী পয়েন্টে পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে কোনোরকম পানি আটকানো হয়। এই বাঁধ মেরামতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দের পরও মূল বাঁধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করায় আবারও ভাঙনের কবলে পড়তে হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষতি পুষিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই পাউবোর উদাসীনতার কারণে আবারও প্লাবিত হলো আশাশুনি উপজেলা সদরের চার গ্রাম। যদিও পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাবাসীর মাধ্যমে দ্রুতই মেরামত করা হবে এই বিকল্প রিং বাঁধ।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ণিমার প্রভাবে খোলপেটুয়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাশুনি উপজেলা সদরের দয়ারঘাট এলাকায় দেয়া বিকল্প রিং বাঁধ উপচে পানি ভেতরে ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে ওই রিং বাঁধের পাঁচটি পয়েন্টে ভেঙে প্রবল বেগে নদীর পানি ঢুকতে থাকে লোকালয়ে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানিতে ভেসে যায় আশাশুনিবাসীর প্রধান আয়ের উৎস মৎস্য ঘের। তলিয়ে গেছে ক্ষেতের ফসলও। পনিবন্দি হয়ে পড়ে চার গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবার।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বুধবার সকাল থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে কোনোরকমে পানি আটকানো সম্ভব হলেও দুপুরের জোয়ারের তা আবারও ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর একটাই দাবি- ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ চাই।

আশাশুনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন জানান, বার বার বলার পরও দয়ারঘাটের দুটি পয়েন্টে ৯ মাসেও বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতাকে দায়ী করেন এই জন প্রতিনিধি।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাবাসীর মাধ্যমে দ্রুতই মেরামত করা হবে এই বিকল্প রিং বাঁধ।

তিনি আরও জানান, জাইকার জন্য এ বাঁধ মেরামতে দেরি হলেও জরুরি ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য এরইমধ্যে ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার কাজের টেন্ডার হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।