শ্রীপুরে বিয়ের রাতে নববধুর লাশ উদ্ধার

0
3

মোঃ শাহাদত হোসাইন, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দাইরপোল গ্রামের মোছাঃ মেঘনা খাতুন নামের নববধুর ঝুলন্ত লাশ শশুর বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা আম গাছ থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। মোছাঃ মেঘনা খাতুন দাইরপোল গ্রামের ফজলুর রহমান(হকার ফজলু) এর ছোট মেয়ে।শ্রীপুরে বিয়ের রাতে নববধুর লাশ উদ্ধার

জানা যায়, গত ০৭-০৪-২০২১ ইং তারিখ বুধবার দাইরপোল গ্রামের চঞ্চল শিকদারের ছেলে আরাফাত হোসেন সাব্বির বাসা থেকে দুজন পালিয়ে ২০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিবাহ করে একই গ্রামের ফজলুর রহমান (হকার ফজলু) এর ছোট মেয়ে মোছাঃ মেঘনা খাতুনকে। তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো বলে জানান পরিবারের লোকজন।

বিয়ের খবর পারিবারিক ভাবে জানাজানি হলে দুইবারের মধ্যে বিবাধের সৃষ্টি হয়। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিলো। এর মধ্যে গতরাত ১১-০৪-২০২১ ইং তারিখ ছেলে পক্ষের লোকজন নিয়ে তাদের সামাজিক ভাবে বিবাহ দেওয়া হয়। বিবাহ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ৪৫ মিনিট পরই নববধুর লাশ বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা আম গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় শশুর বাড়ির লোকজন। তৎক্ষনাৎ শ্রীপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়।

আরও পড়ুন: 

জামাইয়ের গায়ে আগুন দিল শশুর ও শালক

 

এ বিষয়ে নিহত নববধুর পিতা ফজলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনা গত ৭ তারিখের আমার মেয়েকে চঞ্চল শিকদারের ছেলে সাব্বির শিকদার নিয়ে যায়। নিয়ে গিয়ে আমার মেয়ের সাথে অবৈধ কাজ কাম করে আমার বাড়িতে রিটার্ন দিতে যায়। আমি তখন প্রশাসনসহ তার বাড়িতে রিটার্ন দিই, পরের দিন রাত্রে বাড়ি রেখে পরের দিন বেলা ১০ টায় মাগুরা পাবলিক নোটারিতে ২০ হাজার টাকা কাবিন করে নিয়ে আসে। গতকাল রাতে তারা আমার মেয়েকে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করে।

বিয়ের অনুষ্ঠানের পরই হঠাৎ চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনতে পাই এবং আমরা সবাই আমার মেয়ের শশুর বাড়িতে যায়। যখন গাছে ঝুলে ছিলো তখন আমরা গিয়ে দেখি ছেলের বাবা, ছেলের মা, আর ছেলে আমার মেয়ের পা ধরে ঝুলে টানাটানি করছে। প্রশাসন যাওয়ার আগেই তারা লাশ নামিয়ে মাথায় পানি ঢালাঢালি করে।

আমি এই মর্মে আমি সরকারের কাছে,জনগণের কাছে, প্রতিনিধির কাছে, চেয়ারম্যানের কাছে, আমি সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই। যেন আমার মত আর কোন বাবার মেয়েকে এই রকম নিষ্ঠুর হত্যারে শিকার না হতে হয়।

এ বিষয়ে নববধূর দাদা শশুর হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত রাতে বিবাহ অনুষ্ঠানের পর আমরা সবাই ঘুমাতে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ করে আম গাছে তার রাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে আমার নাতি ছেলে বাচানোর জন্য চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা ইনচার্জ সুকদেব রায় জানান, গতরাতে শ্রীপুর থানার ৩নং শ্রীকোল ইউনিয়নের দাইরপোল গ্রামের মোছাঃ মেঘনা খাতুন কে একই গ্রামের আরাফাত রহমান সাব্বিরের সাথে বিবাহ হয়। এর পরই মেয়েটির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি আত্মহত্যা বা পরিকল্পিত খুন কিনা সেটি জানার জন্য লাশটি ময়নাতদন্তে প্রেরন করা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে আসল ঘটনা সম্পর্কে আমরা জানতে পারবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলের বাবা চঞ্চল শিকদার,আরাফাত হোসেন সাব্বির ও নববধুর শাশুড়িকে থানায় আনা হয়েছে।