বজ্রপাত রুখতে লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপন প্রক্রিয়া

0
6

বিপুল জামান লিখন(নেত্রকোণা প্রতিনিধি) নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের  তথ্যমতে,বিগত সাড়ে চার বছরে নেত্রকোণা জেলায় বজ্রপাতে ১৩৬ জন নিহত হয়।যা ১৪ মে পর্যন্ত হিসাব ছিল।প্রতি বছর বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।কিন্তু আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসন থেকে দুর্যোগ থেকে বাঁচতে বজ্রপাত রোধক যন্ত্র বসানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন।

বজ্রপাত রুখতে লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপন প্রক্রিয়া
বজ্রপাত রুখতে লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপন প্রক্রিয়া

বজ্রপাত রোধক যন্ত্রের কার্যকরীতা নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রথমেই বলা যাক, লাইটনিং অ্যারেস্টার কি? “লাইটনিং এরেস্টার হলো বজ্র রোধক। বৃষ্টির দিনে আকাশে যেই বজ্রপাত হয় তাতে লক্ষ লক্ষ ভোল্ট থাকে। এই বজ্র পাত পরিবাহী লাইন এ হলে লাইন আর ভোল্টেজ বহু গুন বেড়ে যাই একেই সার্জ ভোল্টেজ বলে। ইহা ক্ষণস্থায়ী হলে ও লাইন এর জন্য ও এর সাথে সংযুক্ত যন্ত্রপাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে। লাইন ও বৈদুতিক যন্ত্রপাতি কে রক্ষা করার জন্য বৈদ্যুতিক লাইন এর সাথে যে যন্ত্র বা ডিভাইস ব্যবহার করা হয় তাকে লাইটনিং এরেস্টার বলে।

লাইটনিং ও এরেস্টার এই দুইটি শব্দ থেকেও বুঝা যাই আর প্রধান কাজ হলো লাইটনিং কে এরেস্টার করা অথবা আটকে দেয়া। এটি স্বভাবিক সময় সার্কিট এর মতো ব্যবহার করে থাকে কিন্তু যখন চার্জে ভোল্টেজ উত্পন্ন হয় তখন এটি অতিরিক্ত ভোল্টেজকে লাইন এ প্রবাহিত না করে নিরাপদে মাটিতে প্রেরণ করে।

সার্জে কারেন্ট যন্ত্রপাতি ও লাইন এর জন্য কর তাই এটি সার্জে ভোল্টেজ কে সরাসরি মাটি তে নিয়া যায় এটি হলো এর প্রধান কাজ ।

“লাইটনিং অ্যারেস্টার বা সার্জ ডাইভার্টার হল এক ধরনের প্রটেকটিভ ডিভাইস, যা পাওয়ার সিস্টেমে হাই ভোল্টেজ সার্জকে সারাসরি মাটিতে প্রেরন করে”।

লাইটিং অ্যারেস্টারের কাজ কি? লাইটিং অ্যারেস্টারের প্রধান কাজ হচ্ছে লাইনে বজ্রপাত হলে তাকে সরাসরি মাটিতে পাঠিয়ে দেয়া। এজন্য লাইটনিং অ্যারেস্টারকে আর্থ করতে হয়। এ তার যতটা সম্ভব লাইটনিং অ্যারেস্টার হতে নিয়ে সরাসরি আলাদা আর্থ ইলেকট্রোডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয় এবং সেখানে কার্যত সম্ভব তারের বাঁক পরিহার করতে হবে।

ওভারহেড লাইনে যেখানে পোল বা টাওয়ারের সবচেয়ে উঁচু স্থান বরাবর আর্থের তার টানা থাকে, সেখানে বজ্রপাত হতে লাইনকে রক্ষা করার কাজে এ তার যথেস্ট সাহায্য করে। সবচেয়ে উঁচুতে থাকার কারনে বজ্রপাত হলে তা প্রথমে আর্থের তারের উপর এসে পড়ে এবং উচ্চ তড়িৎ চাপের বিদ্যুৎ তরঙ্গ তখন সঙ্গে সঙ্গে আর্থে চলে যায়।

কিন্তু যেখানে বাড়ি বা কারখানায় সার্ভিস কানেকশন দেয়া হয়, কিংবা যেখানে ট্রান্সফর্মার বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি লাইণের সঙ্গে সংযোগ করা থাকে, সেখানে বৈদ্যুতিক স্থাপন বা যন্ত্রপাতি পভৃতিকে রক্ষা করার জন্য লাইটনিং অ্যারেস্টার ব্যবহার করা হয়।

লাইটনিং অ্যারেস্টারের প্রয়োজনীয় গুনাগুনঃ

• স্বাভাবিক পাওয়ার ফ্রিকুয়েন্সিতে অ্যারেস্টারের ভিতর দিয়ে যেন কোন কারেন্ট প্রবাহিত না হয়;

• ডিসচার্জ কারেন্ট যেন লাইটনিং অ্যারেস্টারকে ক্ষতি না করে;

• ডিসচার্জের সময় অ্যারেস্টারের আড়াআড়িতে রেসিডুয়াল ভোল্টেজের পরিমাণ খুব বেশি বা খুব কম না থাকেে;

• সার্জ দূরীভূত হবার পর যেন পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে পারে;

• সার্জ কারেন্ট অ্যারেস্টার-এ প্রবাহিত হওয়ার সময় এর মান যেন অ্যারেস্টারের ব্রেকডাউন স্ট্রেংথ অতিক্রম না করে;

• আর্ক নিভানোর যেন ব্যবস্থা থাকে।

লাইটনিং অ্যারেস্টারের প্রকারভেদঃ

• রড গ্যাপ অ্যারেস্টার

• হর্ন গ্যাপ অ্যারেস্টার

• মাল্টিগ্যাপ অ্যারেস্টার

• এক্সপালশন টাইপ লাইটনিং অ্যারেস্টার

• ভাল্ব টাইপ লাইটনিং অ্যারেস্টার বা থাইরাইট টাইপ অ্যারেস্টার

• স্পেয়ার গ্যাপ অ্যারেস্টার

• অক্সাইড ফিল্ম অ্যারেস্টার

• ইলেকট্রোলাইট টাইপ অ্যারেস্টার

• লেড অক্সাইড টাইপ অ্যারেস্টার।

এছাড়াও তাল গাছ বজ্রপাত রুখতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।