
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ-
গানের তালে তালে হিমু পাঠক আড্ডার আয়োজনে প্রয়াত লেখক হুময়ূন আহমেদের নিজ জেলা নেত্রকোনায় হিমু রূপা সেজে একদল তরুন তরুনী জেলার পৌর শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার করে ৭৩ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় শহরের সাতপাই নদীর পাড় হিমু পাঠক আড্ডার কার্যালয় থেকে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসীর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক অধ্যাপক যতীন সরকার।
সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ূন আহমেদ। আর এমন আয়োজনের মধ্য দিয়েই নতুন প্রজন্মের মাঝে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকে তুলে ধরার একটি ভালো উদ্যোগ। আনন্দের সাথে সাথে তরুণরা সাহিত্য সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকবে বলেও তারা মনে করেন। এতে যুবকরাও ভিন্ন পথে ধাবিত হবে না। সাহিত্য ছাড়া সুন্দর সমাজ গঠন হয় না।
হলুদ পাঞ্জাবী আর নীল শাড়িতে হিমু রূপাদের পদযাত্রায় বিভিন্ন বয়সের সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতি ব্যাক্তিত্বরা অংশ নিয়েছেন। শোভাযাত্রাটি শহরের কালীবাড়ি মোড় হয়ে তেরি বাজার, ছোট বাজার, শহীদ মিনার মোড় হয়ে পৌরসভা মোড় দিয়ে মোক্তারপাড়া মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে সংগঠনের সভাপতি আলপনা বেগমের পরিচালনায় জন্মদিনের কেক কাটেন জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান, পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান ও অধ্যাপক যতীন সরকার।
এতে হিমু পাঠক আড্ডার সদস্যবৃন্দ ও জেলার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও সন্ধ্যা ৬ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে লেখকের লিখা এবং বিভিন্ন নাটক সিনেমায় ব্যবহৃত গান নাচ নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োাজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ মায়ের প্রথম সন্তান হওয়ায় ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর মাতুলালয় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক ভিটা নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া কুতুবপুর গ্রামে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আলপনা বেগম বলেন, আমি এসব কেন করি এমন প্রশ্ন অনেকেরই। আমাদের বর্তমান সমাজ অনেক এগিয়েছে। এর কারণটা হলো সমাজে এখন শিশু, নারী, বৃদ্ধ তাদের নিয়ে ভাবনার অনেক ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। এমনকি আলাদা করে দাপ্তরিকভাবেও দ্বায়িত্ব দেয়া রয়েছে। এরা পিছনে পড়া আমাদের গুরত্বপূর্ন জনগোষ্ঠিই। কিন্তু আমাদের দেশে আরো একটি জনগোষ্ঠি রয়েছে অধিক গুরুত্বপূর্ন। তরুণ যুবা কিশোর। যাদেরকে নিয়ে তেমন কোন কার্যক্রম ঘরে বাইরে কোথাও নেই। পরিবারেও অনেকাংশে সময় দিতে পারেনা। বা নানা কারাণে দেয়া হয় না। যদিও সরকার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর করেছে। সেটিতে সকল তরুন যুবরা কিন্তু সুযোগ পাচ্ছে না। বিশেষ করে শহুরে তরুণরা আনন্দ খোঁজে পায় না। আনন্দ খুঁজতে গিয়ে তাদের বড় একটা অংশ আজ মাদকের থাবায়। প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলো আচ্ছন্ন অনেকে। বেশিরভাগই আসক্ত। বই পড়তে দেখাই যায় না। হারিয়ে যাচ্ছে কোথায় যেনো।
এই তরুণদেরই হারিয়ে যাওয়া সড়ক থেকে বেড়িকেড দিয়ে আড্ডার ছলে আনন্দ আয়োজনের ছলে একত্র করা। ভালো একটি লাইন হলেও শিক্ষা দেয়া। মূলত পরিছন্ন মন মানসিকতা তৈরীতেই আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস।
শুধু মাত্র কম বয়সের নয় এখানে বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন গুনী জনদের সাথে আসলে তরুণদের একটা সম্পর্ক স্থাপনও বড় কাজ। আর সবাই যখন আনন্দ পায়, সেই আনন্দের মধ্য দিয়ে ভালো কিছু শিখে তখনই আমার ভীষণ ভালো লাগে। এই ভালো লাগাটাই আমার প্রাপ্তি, আনন্দ বা সুখ। যে যেটাই ধরে নিক আমার এতটুকুতে মন ভরে যায় যে কিছু তরুণ তো সাহিত্য চর্চা না করলেও সাহিত্যটাকে উল্টে পাল্টে দেখছে। এভাবেই হয়তো এদেরকে সাহিত্যের প্রতি ধাবিত করা যাবে।





