ভিলেজ পলিটিক্স ও অসহায় জনতা

0
2

ভিলেজ পলিটিক্স ও অসহায় জনতাঃ- ইদানিং দেখছি ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ নিয়ে গ্রামের সচেতন শিক্ষিতজন সরগম হচ্ছেন।

এটা ভাল লক্ষণ তবে ধরে রাখাটা মূখ্য। ন্যাশনাল পলিটিক্স এর ব্যাকড হিসেবে ‘রুরাল পলিটিক্স’ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

গ্রামের কিছু মোড়ল বা মাতব্বর যারা গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত থেকে বিচার- আচার করেন এবং বিভিন্ন গ্রামের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে মোটামুটি ধারনা রাখতে সক্ষম তারাই মূলত শক্তিশালী কর্তাব্যক্তি হয়ে উঠেন।

‘ভিলেজ পলিটিক্স’ এর শক্তিশালী হাতিয়ার হলো গোত্র বা গোষ্ঠী প্রথা। যার যত বড় গোষ্ঠী বা লাঠি তার তত বড় শক্তি। লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, “টাকা মূখ্য হয়ে উঠছে সবদিক দিয়ে” যার যত বেশি টাকা থানায় তার দৌরাত্ম্যও বেশি।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ‘ যারা গ্রামে পলিটিক্স করেন তারা কোনো সমস্যা শেষ করার পরিবর্তে লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টাই করেন বেশি। এতে লাভ হয় দুদিক দিয়ে ‘ বিচার করে টাকা লুঠে নেয়া যায় এবং মাতব্বরি দীর্ঘস্থায়ী করা যায় যাতে কেউ তাকে টেক্কা দিতে না পারে।

এরা কুঁট কৌশলে পরের জিনিস হাতিয়ে নিতেও ওস্তাদ। যদি কেউ তাদের বিরুদ্ধে আংগুল তুলে, নিশ্চিত ভাবে বলা যায় তাঁর আর নিস্তার নাই।

কারণ তাকে যে কোনো ভাবেই নাকানি -চুবানি খেতে হবে। বিশেষ করে যারা শিক্ষিত হচ্ছেন তাদের মধ্যেও এ ভাবটা লক্ষণীয় তবে কম।

গ্রামের মোড়লরা সবসময় সচেষ্ট থাকেন কেউ যাতে তাকে পিছনে ফেলতে না পারেন। প্রয়োজনে তারা গ্রামের যুবকদের বিপদে ফেলতেও পিছপা হন না ।

তারা বুঝতে সক্ষম হন না যে তারা তাদের জন্য কল্যাণ কর এবং দেশের জন্য মঙ্গল জনক। রাজনীতির ছাত্র হিসেবে যেটি বুঝলাম তা হলো’ যে সরিষা দিয়ে আমরা ভূত তাড়াব।

সে সরিষাতেই ভূত’ কিন্তু এতে যে একটি এলাকার বা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে তাতে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শাসন ব্যবস্থা প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাপর্য পূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদই সর্ব নিম্ন প্রশাসনিক স্তর। ১৯৭০- এর দশক থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ চালু রয়েছে।

১ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য (মেম্বার) এবং সংরক্ষিত আসনের ৩ জন নারী সদস্য নিয়ে মোট ১৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা গঠিত হয়।

বিভিন্ন আইন ও বিধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতা প্রদান করা হলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দরিদ্রবান্ধব শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব আইন ও বিধির প্রভাবটি মিশ্র রয়ে গেছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদগুলো রাজনৈতিক এলিটবেষ্টিত থাকে। এর ফলে অতিমাত্রায় দুর্নীতি, নাগরিকদের চাহিদার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা এবং শাসনব্যবস্থায় নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তি বা অংশগ্রহণের অনুপস্থিতি জনমনে উদ্বেগের জন্ম দেয়।

 

মোঃ আরমান হুসাইন, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, সিলেট।