হেফাজতের ধ্বংসলীলা : জেলা পরিষদের ক্ষতি পাঁচ কোটি টাকা

0
9

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হেফাজতের কর্মী সমর্থকদের নারকীয় তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিষদের পাঁচ কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম। গতকাল রোববার (১১ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আর্থিক ক্ষতির কথা সাংবাদিকদের জানান তিনি।

হেফাজতের ধ্বংসলীলা : জেলা পরিষদের ক্ষতি পাঁচ কোটি টাকা
হেফাজতের ধ্বংসলীলা : জেলা পরিষদের ক্ষতি পাঁচ কোটি টাকা

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি বলেন, গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র ও দুষ্কৃতিকারীরা অতর্কিতভাবে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের মূল ফটক ভাঙচুর করে এবং এক পর্যায়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

এরপর তারা ভবনের আঙ্গিনায় থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালেও হামলা করে। পরে মাদ্রাসার ছাত্র ও দুষ্কৃতকারীরা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে কার্যালয়ের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে।

এ সময় তারা গ্যারেজে থাকা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এরপর দোতলায় এসে বিভিন্ন কক্ষের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এসময় ঘটনার দিন জেলা পরিষদ বাংলোর তৃতীয় তলায় অবস্থানরত একজন নির্মাণশ্রমিক লাফিয়ে পড়ে জীবন বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবিও জানান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা জেলা পরিষদ প্রশাসন শুরু থেকেই তাদের পাশে থেকেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩২০টি মসজিদে আর্থিক সহায়তা করেছে জেলা পরিষদ। আমরা ভেবেছি তারা আমাদের পাশে থাকবে। কিন্তু ঘটনাচক্রে তারাই আবার এসে জেলা পরিষদে হামলা-ধ্বংসলীলা চালিয়েছে।

এবার ধ্বংসলীলা পরিদর্শনে অতিরিক্ত সচিব

দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব সবার। কিন্তু তারা তা না করে রীতিমতো ধ্বংসলীলা চালালেন। তিনি আরো বলেন, এবারের হেফাজতি তান্ডবে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা একাত্তরের যুদ্ধেও হয়নি।

এ হামলা-তান্ডব দেশকে পিছিয়ে দেবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সচিব মেহের নিগার, প্যানেল মেয়র আসাদুজ্জামান আসাদ, আবুল হোসেন আজাদ, সদস্য জহিরুল ইসলাম ভূঞা, পায়েল হোসেন মৃধা, সহকারী প্রকৌশলী আবদুল হামিদ প্রমুখ।