হারানো ইতিহাস ধরে রাখতে ডাক বক্সের আদলে ডাক ভবন নির্মান শুভ উদ্বোধন

0
4

রাজীব প্রধান,গাজীপুর ঃ- রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ১৪ তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

নবনির্মিত ডাক ভবনটিতে সুসজ্জিত ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক পোস্টাল মিউজিয়াম, সুপরিসর অডিটরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডে-কেয়ার সেন্টার, মেডিকেল সুবিধা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক ওয়াইফাইসহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা রাখা হয়েছে।

এখন বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশেসহ সারা বিশ্বে ,ফেজবুক, মেসেঞ্জার, ইমেল ইত্যাদির ব্যবহারের এক মাএ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন স্বাধীন দেশের নাগরিকরা। তাই এর ব্যবহার এতই বেড়েছে যে সারা বিশ্বে যেন এই ব্যবস্থা ছাড়া অচল প্রায়। আমরা যদি ইতিহাস খুঁজি তাহলে দেখতে পাবো,

অতীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের পর্যালোচনার জন্য আজও গবেষকরা পুরাতন চিঠির ওপর নির্ভরশীল। পৃথিবীতে, কে কখন, কাকে প্রথম চিঠি লিখেছে সে বিষয়ে তথ্য আজও অজানা। তবে বহু বছর আগে মেসোপটেমিয়ার সুমেরিয়ান অঞ্চলে মানুষ ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।

যেমন আকাশের তারা দিয়ে বোঝানো হত রাত, কিংবা তীর ও ধনুকের ছবি দিয়ে বোঝানো হত যুদ্ধের বর্ণনাকে। ছবির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের এই মাধ্যমের নাম ছিল পিক্টোগ্রাম (pictrogram)। এই পিক্টোগ্রামকে বলা হয় চিঠির বিবর্তিত রুপ।

 

সেই দিন আর নেই, যখন যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল ডাকব্যবস্থা। গ্রামবাংলা থেকে শহরের আনাচে কানাচে খাকি উর্দি পরা পোস্টম্যান সাইকেল চড়ে পিঠে ব্যাগ ভর্তি চিঠিপত্র ঝুলিয়ে নির্দিষ্ট বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে হাঁক পাড়ত- ‘‘চিঠি আছে গো।’’ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকা গৃহকর্তা তখন পত্রদাতার লেখনীর সুন্দর প্রতিফলন ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ এই চিঠির মাধ্যমে জানতে পারত পত্রলেখকের আবেগের অনুরণন, আনন্দের হাতছানি ও দুঃখের বিষাদগাথা।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি কবিতার অংশ এবিষয়ে প্রসাঙ্গিক। তিনি লিখেছেন- ‘‘কত চিঠি লেখে লোকে, কত সুখে, প্রেমে, আবেগে স্মৃতিতে, কত দুঃখ ও শোকে।’’

বর্তমান প্রজন্মের কাছে চিঠি লেখার মাধ্যমে যোগাযোগ বিষয়টি আস্তে আস্তে গুরুত্ব হারাচ্ছে। কেন না তাদের কাছ চিঠি লেখার জন্য ধৈর্য্য ও সময়ের অভাব হয়ে গিয়েছে।

অনেকই আবার মনে করেন কী দরকার বর্তমান প্রযুক্তি ছেড়ে অতীতের দিকে ঝুঁকে সময় ব্যয় করা,

এখন ডাকঘরগুলিতে যা চিঠি আসে তার সিংহভাগটাই দফতরিক, মানে চিঠি যা সেগুলি স্কুল কলেজ বা অফিসের কোনও দরকারি চিঠি। তাই গ্রাম থেকে শহরের আজ যতগুলি ডাকঘর আছে সেখানে চিঠি পত্রের আদান-প্রদান কাজটা ক্রমশ গৌণ হয়ে আসছে।

ডাকঘরগুলি বেশিরভাগ সময় ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষের অর্থ সঞ্চয়ের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে। তাই বর্তমানে গ্রামীণ ডাকঘরগুলিকে ব্যাঙ্কের ক্ষুদ্র সংস্করন বললে খুব একটা অত্যুক্তি হবে না।

তাই হারানো ইতিহাস আর ঐতিহ্য কে ধরে রাখার জন্য জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার এই ডাক ব্যবস্থাকে আসের ন্যায় একটি গতিশীল যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিস্তার লাভের জন্য

ডাক বাক্সের আদলে নির্মিত বহুতল ডাক ভবন

ডাক অধিদফতরের নবনির্মিত সদর দফতর ডাক ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডাকঘর সদৃশ ভবনটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লেটারবক্স অনেকে ভুলে গেছে। সবাই এসএমএস ও মেইল দেয়। কিন্তু দৃষ্টিনন্দন এই লেটারবক্স সদৃশ ভবন দেখলে চিঠি পাঠানোর কথা মনে পড়বে।’

ভবনে চিঠিপত্র ঝুলছে, চিঠি যাচ্ছে আসছে, এমন কিছু চিত্র যোগ করারও পরামর্শ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকাল ১১ টার দিকে ডাক অধিদফতরের নবনির্মিত সদর দফতর ডাক ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন তিনি।

দেশের সব ডাকঘরকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ডাক বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাকসেবা কীভাবে উন্নত করা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’