ছিটমহল বিনিময়ের ৬ বছরে বদলে গেছে কুড়িগ্রামের দাসিয়ার ছড়ার দৃশ্যপট

0
16

শফিকুল ইসলাম শফি, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বাংলাদশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের ৬ বছরে বদলে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় বিলুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়ার দৃশ্যপট। সরকারের নানামুখি উন্নয়নে খুশি ৬৮ বছরের অবহেলিত জনপদ। দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশর মুল ভুখন্ডে যুক্ত হওয়া মানুষগুলো সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পেয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন তারা।ছিটমহল বিনিময়ের

দীর্ঘ আন্দোলনের পর দু’দেশের সরকারের সমঝোতায় ২০১৫ সালের ৩১শ জুলাই মধ্যরাতে বিনিময় হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি ছিটমহল। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত ১২টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় ছিটমহল ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া। যার আয়তন ৬ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৬ হাজার ৫শ ২৯ জন। বিনিময়ের পর থেকে এখানকার মানুষরা জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

বিনিময়ের ৬ বছরে দাসিয়ার ছড়ায় ২৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ব্রীজ-কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, কমিউনিটি ক্লিনিক, শতভাগ বিদ্যুতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করা হয়েছে। এখানকার ভুমিহীনদের দেয়া হয়েছে প্রধানম্ত্রীর উপহারের ঘরও।

ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার কালিরহাট এলাকার বাসিন্দা মোজাফ্ফর হোসেন জানান, দীর্ঘ ৬৮ বছরে আমরা ছিটমহলের মানুষরা মৌলিক অধিকারে বঞ্চিত ছিলাম। কোন দেশের সরকারই আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়নি। কিন্তু ছিট বিনিময়ের পর এই ৬ বছরে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি।

বাংলাদশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সম্বয় কমিটির সাবেক সভাপতি মঈনুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময় হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বিলুপ্ত ছিটবাসীদের জীবন-মান উন্নয়ন অবকাঠামোগত নির্মাণের পাশাপাশি সরকারী সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ‘মুজিব-ইন্দিরা সীমানা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই চুক্তি দীর্ঘ সময় নানা কারণে বাস্তবায়ন না হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের কুটনৈতক তৎপরতায় ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হয়।
ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশ এবং ভারতের অভ্যন্তরে ৫১টি ছিটমহল তাদের মূল ভূ-খন্ডের সাথে সম্পক্ত হয়