ঘটনা ধামাচাপার জন্যই আঙ্গুল উঠেছে আমার দিকে : মাহমুদুল হক ভূঁইয়া

0
8

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে ঘোরতর অভিযোগ তুলেছেন দলটির কার্যকরী কমিটির ‘বহিষ্কৃত সদস্য’ মাহমুদুল হক ভূঁইয়া।ঘটনা ধামাচাপার জন্যই আঙ্গুল উঠেছে আমার দিকে : মাহমুদুল হক ভূঁইয়া

আজ শুক্রবার(২ এপ্রিল) পসকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন। দলীয় কর্মী হিসেবে তিনি নিজেও এই ব্যর্থতার দায়ভার নিচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ‘নিজেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালনের ব্যার্থতার দায় নিচ্ছেন’ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

এর আগে গত ২৯ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আ. লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী অভিযোগের আঙ্গুল তার (মাহমুদ) দিকে তুলে বলেছিলেন, ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের তাণ্ডবের ঘটনায় মাহমুদুল হক ভূঁইয়া ও তার কর্মী সমর্থকরাও জড়িত রয়েছেন।

সংসদ সদস্য ও জেলা আ. লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ওই অভিযোগের জবাব দিয়ে আজ পালটা সংবাদ সম্মেলন করলেন মাহমুদুল হক ভূঁইয়া। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আ. লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে।

কিন্তু, তাণ্ডব ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যত পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলো। নিজেদের এই ব্যর্থতার দায় ঢাকতেই বিগত পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার দিকে উপর্যুপরি অভিযোগের তীর ছোড়া হয়েছে। শুধু আমি নই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে প্রকৃতভাবে বিশ্বাসী কেউ এরকম কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ’ এসময় তিনি বলেন, ‘জেলা আ. লীগের সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছিলো।

সেই মিছিলের পেছন থেকে যারা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়েছিলো (ভিডিও ফুটেজগুলো ভালো করে পর্যালোচনা করলে দেখবেন) তারা আ. লীগ নামধারী ছদ্মবেশী এবং অনুপ্রবেশকারী, তারা কেউই বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সৈনিক হতে পারে না।

আ. লীগ ক্ষমতায় আসার সুবাদে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নেয়ার নাম করে তারা আ. লীগের লেবাস ধারণ করে দলের সঙ্গে আছে। তারাই এই ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা বলে আমি মনে করি।’ সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, ‘কান্দিপাড়া এবং শিমরাইলকান্দি বিএনপি-ছাত্রদল অধ্যুষিত এলাকা। বড় মাদ্রাসাটাও ওই এলাকায়।

ঘটনার দিন আমার বাসার গেটের ভেতর থেকে যা দেখার সুযোগ হয়েছে, আমার কাছে মনে হয়েছে হুজুরদের সঙ্গে কান্দিপাড়া-শিমরাইলকান্দির বহুসংখ্যক ছাত্রদলের সমর্থক ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমি নাম বলতে পারব না, কিন্তু ভিডিও ফুটেজ দেখলে তাদেরকে চিহ্নিত করা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা সহিংসতা চালিয়েছে, তারা দেশের শত্রু, ইসলামের শত্রু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারকীয় ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এ ধরণের সহিংসতা চলতেই কবে। ঘটনার সঙ্গে আমাকে এবং আমার সমর্থকদের জড়িয়ে এমপি মহোদয় যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’ প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মেয়র পদে নির্বাচন করায় মাহমুদুল হক ভূঁইয়াকে জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে দল থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় আ. লীগ।

তবে, তিনি বহিষ্কারের কোনো চিঠি পাননি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন। আজকের সংবাদ সম্মেলনে জেলা কৃষকলীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন দুলাল, আতাউর রহমান, সারোয়ার আলম, ফরিদ আহাম্মদ, নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।