
রাজিব প্রধান, শ্রীপুর-(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ-সোনালী ব্যাংক শ্রীপুর শাখার কর্মকর্তার দক্ষতায় প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পেল শ্রীপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের আড়াই কোটি টাকা।
গৃহিনী ও কৃষকদের অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা সাজিয়ে ভুয়া এ্যাডভাইস দাখিলের মাধ্যমে টাকা ছাড় দেয়ার পর সন্দেহ হলে অনুসন্ধান করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। পরে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে চলে আসে।
এঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন মূল হোতা উপজেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের কর্মচারী তানভীর। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন বিভিন্ন সরকারী দফতরের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত সুএে জানাযায়,
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নামে ভূয়া এ্যাডভাইস দাখিলের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৪৬লাখ ৯হাজার ৯৬০টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় শ্রীপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বজলুর রহমান, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর আরিফুর রহমান, মাষ্টাররোলে কর্মরত তানভীরসহ ৯জনকে অভিযুক্ত করে গত ১লা জুলাই মামলা করেছেন সোনালী ব্যাংক শ্রীপুর শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: রেজাউল হক।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭জুন শ্রীপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের সাক্ষরকৃত এ্যাডভাইসের মাধ্যমে ৫টি বিল পরিশোধের (সরকারী চাকুরীজীবির আনুতোষিক) লক্ষে মোট ২ কোটি ৪৬লাখ ৯হাজার ৯৬০টাকা প্রদানের নিমিত্তে অভিযুক্ত মাষ্টাররোলের কর্মচারী তানভীর এডভাইসের হার্ড কপি ব্যাংকে নিয়ে আসেন। মোটা অংকের টাকা হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এসময় ব্যাংক থেকে হিসাবরক্ষণ অফিসে ফোন করার পর অভিযুক্ত হিসবারক্ষণ কর্মকর্তা এসব এডভাইসের নিশ্চয়তা দেন।
এঘটনার পরদিন সন্দেহ তৈরী হলে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সোনালী ব্যাংকের শাখার যোগাযোগ করে দেখা যায়, হিসাবধারীরা কেউই সরকারী চাকুরীজীবি নয়, তারা প্রত্যেকেই কৃষক-গৃহিণী।
এবিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন, তার সরলতার সুযোগে তার অফিসেরই কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এ বিল ব্যাংকে প্রেরণ করেন। এছাড়াও তানভীর ওই এ্যাডভাইস গুলোতে আমার স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসিয়েছে। তিনি জালিয়াতির সাথে জড়িত নন। তবে অভিযুক্ত তানভীরের সাথে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
জালিয়াতির এঘটনায় তিন সদ্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। তারা ইতিমধ্যে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ও ব্যাংকে গিয়ে বিভিন্ন বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে এতবড় জালিয়াতির ঘটনায় হতবাক হয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুরো জালিয়াতির ঘটনায় সোমবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্ল্যাহ্।





