কমছে না চালের দাম

0
19

ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। সরকারি হিসাবেই বাজারে মোটা চালের কেজি এখন ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। অথচ গত বছরের এই সময়ে মোটা চাল প্রতি কেজি ৩২ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানির জন্য ৩০০ জন ব্যবসায়ীকে অনুমতি দিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৪ হাজার টন চাল দেশে এসে পৌঁছেছে। আর সরকারিভাবে ছয় লাখ টন আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও এসেছে ৪৬ হাজার টন চাল। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া, নওগাঁ, দিনাজপুরসহ দেশের প্রধান ধান-চালের মোকাম এবং বাজারে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, চালের দাম এখনো না কমায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন চাল ব্যবসায়ী এবং চালকলমালিকেরা। আবার তাঁদেরই চাল আমদানির অনুমতি বেশি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দ্রুত চাল আমদানি করলে দাম কমে যেতে পারে, এ কৌশল নিয়ে ধীরগতিতে আমদানি করছেন কি না তা খতিয়ে দেখা উচিত।

এ বছরের শুরু থেকেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি গুদামে মজুত এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি গুদামে চালের মজুত ছিল মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার টন। দেশের সরকারি চালের গুদামের মজুতক্ষমতা প্রায় ২৫ লাখ টন। সরকারি গুদামে ন্যূনতম ১২ থেকে ১৫ লাখ টনের মজুত থাকার নিয়ম রয়েছে। গত বছরও একই সময়ে ১৩ লাখ টনের বেশি চাল মজুত ছিল।

আমদানি দ্রুত করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চাল আমদানিতে ধীরগতির কারণসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। চাল আমদানির অনুমতি পাওয়া ১২ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ আমদানি শুরু করায় ভারতেও চালের দাম বেড়ে গেছে। আর সীমান্তে জ্যামের কারণে একেকটি ট্রাক চাল নিয়ে দেশে প্রবেশ করতেই চার থেকে ছয় দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। বেশির ভাগ স্থলবন্দরে কয়লা, পাথরসহ অন্যান্য নিয়মিত আমদানি পণ্যের ট্রাক আগে থেকেই অবস্থান করছে। ফলে চালবাহী ট্রাক আসতে দেরি হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমও সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতে চাল আনার ক্ষেত্রে সীমান্তে ট্রাকের জ্যামসহ নানা জটিলতার কথা বলেছেন। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এসব জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে সামনের দিনগুলোতে চাল দ্রুত আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর আশা, চাল আমদানি বাড়লে দাম কমে আসবে।