
মোঃ শাহীন, ক্রীড়া প্রতিবেদক: সাকিব, তামিম, মুশফিকের অভিষেকের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এরপর মোস্তাফিজ ছাড়া আর কয়জন ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার বাংলাদেশ পেয়েছে?
এরা দলে না থাকলে এদের ব্যাক আপ কারা?
প্রশ্নগুলোর উত্তর কারো কাছেই নেই।কেন নেই সেটা আমরা সবাই কম বেশী জানি।
সোহাগ গাজী,ইলিয়াস সানি,নাজমুল হোসেন(বোলার),সোহরাওয়ার্দী শুভ,মার্শাল আইয়ুব,এনামুল হক বিজয় নাসির সহ আরো অনেকেই আছে যারা বর্তমান পঞ্চপাণ্ডব পরবর্তী বাংলাদেশ দলের হাল ধরতে জাতীয় দলে এসেছিল।
বর্তমান সময়ে লিটন,সৌম্য, মিরাজ,সাইফুদ্দিন কিছুটা ঝলক দেখাচ্ছে কিন্তু কয়দিন টিকবে সেটার কোনো নিশ্চয়তা নাই।
মুস্তাফিজ এত ভালো শুরুর পরেও কিন্তু বর্তমানে এভারেজ বোলার।লিখন,বিপ্লব,শুভাসিস,আবু হায়দার রনিসহ বিপিএলের আরো কয়েকজন বোলারের অান্তর্জাতিক ক্রিকেটে খবরই নাই।
এসব ক্রিকেটারের কথা চিন্তা করলে কমপক্ষে ৫০ জন প্রতিভাবান প্লেয়ার পাইপ লাইনে থাকার কথা অথচ এই সংখ্যার একজনও দেশের জন্য বলার মতো খুব বেশি কিছু করতে পারে নাই।
এদের জন্য এইচপি তৈরি করা হয়ছে কিন্তু ওই এইচ পি তে পারফর্ম করেও ইন্টারন্যাশনালে কিছুই করতে পারে না।
একটা কথাতো প্রচলিতই হয়ে গেছে যে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্মাররা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট খেলতে পারে না।
তাহলে বুঝতেই পারতেছেন বাংলাদেশের এইচপি আর ঘরোয়া ক্রিকেটের কি অবস্থা।
বিগত দশ বারো বছরে বাংলাদেশের জেতা ম্যাচ গুলাতে ৯৫% অবদানই সিনিয়র চারজনের।
মাঝখানে ইলিয়াস সানি,মুস্তাফিজ,সোহাগ গাজী সোহরাওয়ার্দী শুভ তাদের অভিষেকে কয়েকটা ম্যাচ জিতিয়েছে।
তাহলে বিসিবির লোকজন ক্রিকেটের উন্নতিটা কোনদিক দিয়ে করলো?
চারজন একসাথে অবসর নেয়ার পরে আফগানিস্তান আর জিম্বাবুয়ে যে আমাদের চোখ রাঙানী দিবে তা আঁচ করাই যাচ্ছে।
প্রতিবেশী ভারত যেখানে উন্নতি করতে করতে একসাথে চার-পাচটা দল তৈরি করে ফেলছে সেখানে বাংলাদেশের একটা দলেরই করুণ অবস্থা তারপরেও যখন বিসিবির লোকজন বড় মুখে বলে “একটা প্লেয়ার তৈরি করতে অনেক টাকা খরচ হয়” এক বছরের মধ্যেই সাকিবের ব্যাক আপ প্লেয়ার তৈরি হয়ে যাবে” এসব নিছক শুভঙ্করের ফাঁকি মনে হয়।
বোর্ডের অনেক কর্মকর্তার চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য সাকিব,তামিম,মুশফিক,রিয়াদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।
কেননা আপাত দৃষ্টিতে তাদের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করেই আমাদের ক্রিকেট বর্তমান এই অবস্থানে।
একবার চিন্তা করেন সাকিব-তামিমরা অবসর নেয়ার পরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কি অবস্থা হবে।




