গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ ইলিম বাড়ি মোড় এলাকায় জলাবদ্ধ গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত দুই শিশু হলো, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মামুন মিয়ার ছেলে জুনায়েদ (৯)। সে স্থানীয় সুলতান উদ্দিনের ভাড়াটিয়া ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপরজন ইউসুফ (৯), মুন্সীগঞ্জের এমদাদুল হকের ছেলে। সে স্থানীয় কাজলের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ ইলিম বাড়ি মোড় এলাকায় আবুল হোসেনের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে জমির একটি অংশে গভীর গর্ত তৈরি হয়ে সেখানে পানি জমে পুকুরের মতো জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় যাওয়ার পর দুই শিশু নিখোঁজ হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পানির নিচ থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাওনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খাইরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা দাবি না থাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত শিশুদের বাবা-মা বিভিন্ন কারখানায় চাকরি করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান উদ্দিন বলেন, ‘জমে থাকা পানির নিচে গর্ত থাকায় জায়গাটি পুকুরের মতো হয়ে গেছে। এখানে পানি অনেক গভীর।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পায়নের কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার কারণে ওই স্থানে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় পানি জমে থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি নিরাপদ করতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা জলাবদ্ধ ও গভীর গর্তগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।







মন্তব্য করুন