বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত সেই প্রতিবন্ধী ফিরোজা বেগম (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শুক্রবা দুপুরে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আহত বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক বাজারসংলগ্ন গোপীনাথপুর এলাকায় জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরকারি গাড়িতে করে নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তার সঙ্গে গাড়িতে স্ত্রী নাজমা আরা বেগম ছিলেন। তাদের নিরাপত্তায় পুলিশের একটি গাড়িও সঙ্গে ছিল।

গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়িটি আগে চলে যায়। এর পরপরই ফিরোজা বেগম (৬০) নামের এক নারী পথচারী মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় পথচারী ফিরোজা বেগমও আহত হন। তিনি গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী। পরে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম বলেন, পুলিশের গাড়ি পার হওয়ার পরপরই এক নারী পথচারী হঠাৎ মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি তাদের গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায়। এতে প্রতিমন্ত্রী ও তিনি দুজনই আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাত লেগেছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুপুর ১২টার দিকে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। হাঁটুর ওপরে আঘাতের স্থানে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসকেরা তার অপারেশনের প্রস্তুতি নেন। অপারেশন শেষে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ঢাকায় আনার কথা রয়েছে।