“রাত ৩ টার চাঁদ”
একদিন রাত ৩টার চাঁদ দেখো।
বিশ্বাস করো, মনের ভেতর এক অন্যরকম শান্তি আর ভালো লাগা কাজ করবে।
হঠাৎ বাঁশঝাড়ে বাতাসের দোলায় মচমচ শব্দে শরীর চমকে ওঠে। গাছের পাতাগুলো যেন তোমার দিকেই তাকিয়ে থাকে, আর তুমিও তাকিয়ে থাকো তাদের দিকে। প্রকৃতির এই নীরব সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ।
হঠাৎ চাঁদ আমাকে জিজ্ঞেস করল,
“আচ্ছা, তুমি ঘুমাও না? এত রাতে জেগে থাকো কেন?”
আমি হেসে বললাম,
“আমি যদি ঘুমিয়ে পড়ি, তাহলে তোমাকে পাহারা দেবে কে?”
চাঁদ মুচকি হেসে উত্তর দিল,
“তোমার মতো শত শত মানুষ প্রতিদিন আমার অপেক্ষায় থাকে।”
এবার গাছের পাতাগুলো যেন ফিসফিস করে বলল,
“কেন জেগে আছো?”
আমি হেসে বললাম,
“তোমাদের সঙ্গে একটু গল্প করতে চাই। তোমরা কি আমার মন খারাপের সঙ্গী হবে?”
গাছ বলল,
“মন খারাপ কেন? আমরা তো প্রতিদিন তোমার অপেক্ষায় থাকি। তুমি এলে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকো, এটাই আমাদের ভালো লাগে।”
হঠাৎ আমার মন বলল,
“এত রাতে বাইরে কেন?”
আমি মনকে বললাম,
“তুমি যদি সব সময় হাসিখুশি থাকতে, তাহলে আমাকেও এত রাতে বাইরে এসে একা বসে থাকতে হতো না।”
ঠিক তখনই পাশে থেকে একজন বলে উঠলেন,
“বাবা, এত রাতে বাইরে কী করছ?”
আমি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম,
“কাকা, আমি একটু চাঁদের অপেক্ষায় আছি।”
কাকা মুচকি হেসে বললেন,
“ভাতিজা, তোমার মন খারাপ, তাই না? তোমার মতো আমিও একদিন এই চাঁদের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতাম। ভেবেছিলাম, যাকে ভালোবাসি তাকে একদিন ঘরে তুলে আনব। কিন্তু পরিস্থিতি তা হতে দেয়নি।”
তারপর তিনি বললেন,
“চলো ভাতিজা, ঘরে যাই। মন খারাপ করে কোনো লাভ নেই।”
তখন বুঝলাম, কাকাও তাঁর প্রিয় মানুষটিকে না পাওয়ার কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন। কিছু ভালোবাসা হয়তো পূর্ণতা পায় না, কিন্তু স্মৃতি হয়ে সারাজীবন হৃদয়ে রয়ে যায়।
কামরুজ্জামান কাজল
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
অনার্স প্রথম বর্ষ
মন্তব্য করুন