
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : নাসিরনগর উপজেলায় যাত্রা শুরু হলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পুর্ণ বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দানকারী কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের। আজ বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে স্থানীয় নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কমিউনিটি ভিশন সেন্টারটি গণভবন থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যুক্ত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাংসদ বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। এ সময় নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাফিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট থেকে যুক্ত হন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট এবং ন্যাশনাল আই কেয়ারের পরিচালক গোলাম মোস্তফা সহ অন্যান্যরা এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকে অর্থাভাবে যথাযথ চিকিৎসা সেবা পান না। অনেকে তাদের সমস্যা বুঝতেও পারেন না। তাদের কথা মাথায় রেখেই আমি এই কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। চিকিৎসা সেবায় যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যাবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান উপস্থিত অতিথিরা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নিদের্শনায় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে ২য় ধাপে দেশের ৭০টি উপজেলায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে এই কমিউনিটি ভিশন সেন্টার। মোট ২০টি জেলার রোগীরা এ হাসপাতালগুলো থেকে সরকারী ব্যবস্থাপনায় সম্পুর্ন বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও সেবা পাবেন। এখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরামর্শ, অপারেশন ও লেন্স সংযোজন করাসহ সব ধরনের সেবা প্রদান করা হবে।
দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সের সার্বক্ষণিক তৎপরতা ও সহায়তায় রোগীরা তাদের চক্ষু পরিক্ষা করে বেজ হাসপাতালে অবস্থানরত ডাক্তারদের ভিডিয়ো কলে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বেজ হাসপাতালে অবস্থানরত ডাক্তার ই-সিগনেচার সংবলিত একটি প্রেসক্রিপশন রোগীকে পাঠাবেন।
সেখানে কর্তব্যরত নার্স সেটি কপি করে রোগীকে তদানুযায়ী ওষুধ ও চশমা প্রদান করবেন। এই সেবা নিশ্চয়নের ফলে ৯০ ভাগ মানুষ সরাসরি উপকার পাবেন এবং বাকি ১০ ভাগ রোগীকে (যাদের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর) বেজ হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।
এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতালকে বেজ হাসপাতাল করে সেখানে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপিত হয় যা গত এক বছরে সম্পুর্ন বিনামূল্যে ৮ হাজার অপারেশন সম্পন্ন করে স্বাস্থ্যখাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়াও এখানে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৯ জন রোগীকে নানা ধরনের চক্ষু সেবা প্রদান করা হয়েছে।
সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে এখানে বিশেষ চক্ষু সেবা প্রদান করা হচ্ছে। রোগীরা এসে চক্ষু রোগের সব ধরনের সেবা গ্রহণ করেন। এখানে রেটিনা, গ্লুকোমা, কর্ণিয়া, শিশু চক্ষু রোগ, চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষাসহ চোখের প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা করা হয়। এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসাপাতালের উদ্যোগে ক্যাম্প করে রোগী বাছাই করা হয়।
তাদের এ হাসাপাতালে বিনামূল্যে চক্ষু রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন করা হয়। এতে এ অঞ্চলের ছানি জনিত অন্ধত্ব অনেকটা কমে এসেছে। ২০২৩ সালের মধ্যে এই চক্ষুসেবা কার্যক্রম দেশের আরো ১০০টি উপজেলায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।





