চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে প্রবীণদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন

0
8

খালিদ আহমেদ রাজা:

মাদার তেরেসা বলেছিলেন-
“যদি তুমি একশো মানুষকে সাহায্য করতে সক্ষম না হও, তাহলে অন্তত একজনকে সাহায্য করো।“

ঋতু পরিক্রমায় বাংলা পৌষ ও মাঘ শীতকাল। ষড়ঋতুর এই দেশে এখন আর ষড়ঋতু নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীত, গরম ও বর্ষা- এ তিন ঋতুরই প্রভাব। প্রচণ্ড গরম, অতিমাত্রায় শীত ও অতিবৃষ্টির প্রভাব বেশি। ষড়ঋতুতে বাংলা পৌষ ও মাঘ শীতকাল হলেও কোনো কোনো বছর কার্তিকের শেষদিক থেকে শীত শুরু হয় এবং তা থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং এর মাত্রা নিচে নেমে আসে। তাপমাত্রা যখন কমতে থাকে, তখনই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এ শীত অনেক সময় হাড় কাঁপানো শীতে পরিণত হয়। এ বছর শীত অনেক আগে এসেছে। কার্তিক মাসের শেষদিকে ও অগ্রহায়ণ মাসের শুরুর দিকে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। সারা দেশে এখন হাড় কাঁপানো শীত। এই শীতে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা তিন-চারগুণ বেশি।

দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য শীতকাল বড় কষ্টের। শীতকাল এলেই দরিদ্র অসহায় মানুষ শীতে জবুথবু হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালের পর যেমন শীতকাল আসে তেমনিভাবে সুখের পর দুঃখ। আর সুখ-দুঃখকে নিয়েই আমাদেরকে জীবনযাপন করতে হয়। একইভাবে শীতকাল এসেছে ধনীদের জন্য সুখ, আনন্দ ও উল্লাস নিয়ে এবং গরিবদের জন্য দুঃখ, হতাশা ও অশান্তি নিয়ে। একদিকে শীতকাল এলে বিত্তবান শ্রেণির মানুষগুলো খুশিতে আনন্দিত হয়। অন্যদিকে শীতকাল এলে গরিী, দুর্ভাগা, সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো দুঃখিত হয়। আমাদের সমাজে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য শীতকাল হলো এক ধরনের অভিশাপ। আমরা জানি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো গ্রীষ্মকালে বা গরমের দিনে ফুটপাথ, রেলস্টেশন ও বস্তিতে থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য দরিদ্র নিরসন করা, অসহায় শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টি সহ সময় সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রমে উদ্যোগ-ও গ্রহন করে আসছে সংগঠনটি। গত ১০ বছর যাবত দেশব্যাপী বিভিন্ন দেশসেবামূলক পদক্ষেপ গ্রহন ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে চ্যারিটি ফাউন্ডশনটি।শীতকালে তাদের জন্য ফুটপাথ কিংবা রেলস্টেশনে থাকা খুবই কষ্টকর বা অসহনীয়। তা ছাড়া শীতে তাদেরকে মাঝেমধ্যে না খেয়েও থাকতে হয়। তাই সব দিক মাথায় রেখে ২০০ অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে চ্যারিটি ফাউন্ডেশন।

আজ ২৩ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির রংপুর শাখা, রংপুর রাধাবল্লব ঈদগাহ মাঠে- ২০০ টি অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে শীত বস্ত্র (কম্বল, মোজা, টুপি) বিতরণ করা করেণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মধুসুদন দত্ত। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দরিদ্র চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাহবুবুর রহমান শাহীন, এবং রংপুর জেলা সভাপতি সুমিত রায়, আহসান ফরিদ সুমন, জাহিদুল ইসলাম, সিয়াম খন্দকার,বিপ্র রায়, নিত্য রায়, জাহিদ হাসান, নাফিস বিন মাহমুদ, মুশফিকুর রহমান, অনিত রায়, মলয় রায়, মাহিন খান, আমিরুল ইসলাম সহ স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর জেলা সভাপতি সুমিত রায় বলেন, খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষেরা বিভিন্ন জায়গায় অসহায়ের মতো শীতের কষ্টে দিনযাপন করছে। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক কষ্টে রাত কাটায় তারা। শীতে করোনার প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পাবে। তাই আমরা তাদের মাঝে শীত বস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে শীতের উষ্ণতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাদের সেবায় আমাদের এই আয়োজন।তিনি আরও বলেন, চলতি শীতে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তা ছাড়া এ সময়ে শীতজনিত প্রাদুর্ভাব যেমন—সর্দি-কাশি, হাঁপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত থাকে বেশির ভাগ মানুষ। তাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদানে বিত্তশালীদেরও এগিয়ে আসা উচিত।

দরিদ্র চ্যারিটি ফাউন্ডেশন রংপুর ব্রাঞ্চ এর পক্ষ থেকে ২০০ জন হতদরিদ্র অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র(কম্বল,টুপি,মোজা) বিতরণ করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মধুসূদন দত্ত এবং ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দরিদ্র চ্যারিটি ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাহবুবুর রহমান শাহীন এবং রংপুর জেলা সভাপতি সুমিত রায়। আরো উপস্থিত ছিলেন রংপুর এডুক্রাফট কোচিং প্রতিষ্ঠা পরিচালক আহসান ফরিদ রুমন। উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নিত্য রায়, হেড অফ আইটি মুশফিকুর রহমান,এবং নাফিস বিন মাহমুদ, হেড অফ কনটেন্ট রাইটার নাফিস বিন মাহমুদ, অর্থ ব্যবস্থাপক মলয় রায়, লজিস্টিক অফিসার আমিরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন কিছু পরিশ্রমী স্বেচ্ছাসেবক তাদের মধ্যে সিয়াম খন্ধকার আপন, বিপ্র রায়, মাহিন খান, জাহিদ হাসান, অনিত রায় এবং কিছু মেয়ে সেচ্ছাসেবী। ডিসিএফ ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এর পথ চলা শুরু। সাফলের ১০ বছর ধরে আমরা আরো অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। আগামীতে প্রতিষ্ঠানটি আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করার সংকল্পে এগিয়ে যাচ্ছে।