কটিয়াদীতে ভূট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

0
2

মিয়া মোহাম্মদছিদ্দিক,কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ প্রতি বছর ইরি-বোরো ধান কাটা মৌসুমে স্থানীয় চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় এবং বাজারে প্রচুর চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় চরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভুট্টা চাষ।

আর ৩কিঃমিঃ এলাকা জুড়ে ভূট্টা চাষ করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পৌরসভার বøকের বেথৈর গ্রামের কৃষকরা। উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা দ্বিগুন হওয়ার প্রত্যাশা।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষনে ও সহায়তায় তারা এই ভূট্টা চাষ করছেন কৃষকরা জানান। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন ও বেশী লাভ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ১ শত হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

ভূট্টা অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি গবাদি পশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।ভুট্টার পাতা সুষম গো-খাদ্য এবং কান্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।গবাদি পশুর খাদ্য ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে অনেক কৃষক ভুট্টা চাষ করছেন।উপজেলার পতিত জমিগুলো ভুট্টা চাষের আওতায় আনা হচ্ছে।

ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। এই রবি মৌসুমে কৃষকরা অন্যান্য আবাদের চেয়ে ভুট্টা চাষে বেশি ঝুকছে। বেশি উচু নিচু নয় এমন জমিতে আগে শোভা পেত ক্রাউন, তিশি, ধেমসি, মরিচ, কচুসহু ও অন্যান্য আবাদ। এখন এ সব আবাদ বাদ দিয়ে কৃষক ভুট্টা চাষে উৎসাহী হচ্ছে।

উপজেলার পৌরসভার বেথৈর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাসিম জানান,ভূট্টা চাষ করতে সার ও সেচ কম লাগে,ফলন অন্য ফসলের তুলনায় বেশী হয়।তাই ধান চাষ না করে ভুট্টা চাষ করছি। আমি এ বছর ৭০ শতাংশ জমিতে ভূট্টা চাষ করেছি। আশা করছি বেশ ভালো ফলন পাবো।

সূর্যমুখী চাষে সাফল্য পাচ্ছে কৃষক

এ গ্রামের আরেকজন প্রান্তিক কৃষক মল্লিক মিয়া বলেন,আমাদের বøকের উপ সহকারী সবসময় খোজখবর রেখেছেন।এক বিঘা জমিতে ভূট্টা চাষ করতে খরচ হয়েছে ৬-৭ হাজার টাকা এবং বিক্রি হবে ৩০ -৪০ হাজার টাকা। এছাড়া আমরা ভূট্টার পাশপাশি খড়ের বদলে গরু-ছাগলের এক বছরের খোরাক পাব ও লাকড়িও পাব।যা জ¦ালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।

পৌরসভার বøকের উপ সহকারী মোঃ আবু ছিদ্দিক জানান,আমরা ভুট্টার আবাদ বাড়ানোর জন্য ব্যাপক কর্মসূচী নিয়েছি এবং সার,বীজসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ সবসময় দিয়েছি।আমাদের এলাকায় ব্যাপক ভুট্টার আবাদ হয়েছে ও আগামীতে দ্বিগুন ভুট্টার আবাদ বাড়বে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মুকশেদুল হক জানান,উপজেলার জমিগুলো ভুট্টা চাষের উপযোগী।

বানিজ্যিক কৃষির সম্প্রসারনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।লাভজনক এই ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কৃষি অফিস থেকে সব রকম পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।আমরা ভুট্টার আবাদে সফল হয়েছি।আশা করছি বর্তমান সময়ে যেভাবে ভুট্টার আবাদ হচ্ছে সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং আরো বৃদ্ধি পাবে