নারী পুলিশের ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যে: মুসলিম সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া

0
102

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের এক নারী সদস্যের ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত নায়েক পদমর্যাদার দীপা রানী (২৬) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট Dipa Das থেকে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীপা রানী তার একটি পোস্টে লেখেন—
“শখের নারী ১২ ভাতারী হয় আর শখের পুরুষ শাহ সুফি পীরে কামেল মুর্শিদে মোকাম্মেল আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মাদ দুধে ধুয়া তুলশী পাতা হয়!”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা দীপা রানীর এ ধরনের মন্তব্যকে ইসলামবিরোধী এবং উসকানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকে দাবি করেছেন, তিনি পূর্বেও ইসলাম বিদ্বেষী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন, যা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে আরও বেশি সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।

আইনগত দৃষ্টিকোণে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কোনো প্রচেষ্টা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৯৫ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য কেউ যদি কিছু প্রকাশ করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন দীপা রানীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন,পুলিশে কর্মরত একজন সরকারি চাকরিজীবীর এ ধরনের বক্তব্য/পোস্ট শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের বিষয় নয়।এটি তার দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অসহিষ্ণুতার পরিচয় বহন করে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”