Somoyerpata Most Popular Newspaper in Bangladesh

আগস্ট 31, 2024

রাণীনগরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বত্রিশ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Filed under: সারাদেশ — MD Khaled Bin Firoz @ 5:53 অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর রাণীনগরের আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে ৩২লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে গত ৫আগস্ট গনঅভ্যুত্থানের পর থেকে অধ্যক্ষ লাপাত্তা হওয়ার কারণে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চললেও ভেঙ্গে পড়েছে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম। দ্রুত ভুক্তভোগীরা তাদের প্রদেয় ঘুষের বত্রিশ লক্ষ তিরানব্বই হাজার টাকা ফেরত পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী কলেজের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: আইয়ুব আলীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে ২০০০সাল থেকে ২০১৫সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ের চাকরী প্রার্থীদের কাছ থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েল ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলু।
আওয়ামীলীগের এই দুইজন প্রভাবশালী নেতা মিলে গত ২৪বছর ধরে বিভিন্ন ধরণের নিয়োগ ও কলেজ ফান্ডের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আবার কোন কোন প্রার্থীকে ভুয়া নিয়োগপত্র ও যোগদান পত্র প্রদান করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মামাতো ও ফুফাতো এই দুইজন ব্যক্তি।

আবার কোন কোন পদে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আগের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নতুন করে বেশি অর্থ নিয়ে চাকরী প্রদান করেছেন। ডিগ্রি পর্যায়েও একই অবস্থা। কলেজের প্রভাষক আইয়ুব আলীর কাছ থেকে ১লক্ষ ৮০হাজার, শ্রী নিরাঞ্জন কুমারের কাছ থেকে ৪০হাজার, জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ৩লক্ষ ১৬হাজার, মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ৫লক্ষ, রশিদুল ইসলামের কাছ থেকে ১লক্ষ ৮০হাজার, আবু তারেক সরদারের কাছ থেকে ৫০হাজার, প্রদর্শক এমদাদুল আলমের কাছ থেকে ১লক্ষ ১০হাজার, তপন কুমার মহন্তের কাছ থেকে ১লক্ষ ৬০হাজার, হিরেন্দ্রনাথের কাছ থেকে ৩৭হাজার, মঞ্জুরুল হকের কাছ থেকে ৫০হাজার টাকা ও অফিস সহকারী হামিদুল ইসলামের কাছ থেকে কলেজের জন্য ১০শতাংশ জমি গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া ডিগ্রি পর্যায়ে প্রভাষক মাহবুবের কাছ থেকে ৪লক্ষ, আনোয়ারুল হকের কাছ থেকে ৩লক্ষ, রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৪লক্ষ, শের এ গোলামের কাছ থেকে ৩লক্ষ, প্রার্থনাথের কাছ থেকে ২লক্ষ ও আবু সাইদের কাছ থেকে ৭০হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। এছাড়া এনটিআরসি কর্তৃক যে সকল শিক্ষক কলেজে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কলেজের ফান্ডের কথা বলে অধ্যক্ষ লাখ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগকারী প্রভাষক মো: আইয়ুব আলী বলেন দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এই দুইজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা যায়নি। আমরা ভুক্তভোগী সবাই অসহায় মানুষ তাই আমাদের প্রদেয় টাকা দ্রুত ফেরতের আশা বুকে নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা আশাবাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভিযোগের ভিত্তিতে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করবেন এবং এমন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

অধ্যক্ষ কি এম মাসুদ রানা জুয়েল মোবাইল ফোনে বলেন আমি ৫আগস্টের আগে ঢাকায় গিয়ে আটকা পড়েছিলাম। সবেমাত্র এলাকায় এসেছি দ্রুতই কলেজে যাবো। আর কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের লোকজন প্রার্থী নিয়োগে আর্থিক লেনদেন করে থাকতে পারেন। আর একটি কলেজের অধ্যক্ষই সবকিছু নয়। আর সেই সময় যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছিলো তাদের মধ্যে অনেককেই কিছু না কিছু টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় করতেই বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে কলেজের কিছু শিক্ষক। দ্রুতই আমি অভিযোগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমস্যার সমাধান করার চেস্টা করবো।

সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মোবাইল ফোনে বলেন আমার বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পন্ন মিথ্যে। আমি আর্থিক বিষয়টি কখনোও নিয়ন্ত্রন করিনি। যাবতীয় আর্থিক বিষয়টি অধ্যক্ষ নিজেই নিয়ন্ত্রন করেছেন। তবে ডিগ্রি পর্যায়ে কিছু অর্থের বিনিময় হয়েছে যা কলেজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ব্যয় করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাইমেনা শারমীন বলেন এমন বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাণীনগরে জামায়াতের প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Filed under: সারাদেশ — MD Khaled Bin Firoz @ 12:31 অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর রাণীনগরে দীর্ঘ ১৭বছর পর প্রতিনিধি সমাবেশ করলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাণীনগর উপজেলা শাখা। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং আমীরে জামায়াতের বার্তা উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যদের মাঝে পৌছে দিতেই মূলত এই সমাবেশের আয়োজনা করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোস্তফা ইবনে আব্বাস। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোস্তফা ইবনে আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী শামিনুর ইসলাম শামীমের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী এড. আ.খ.ম সায়েম। এছাড়া বীরমুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল, মাওলানা আবুল হাসান, মাওলানা আ: কাহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে উপজেলার সকল ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দলীয় কর্মকান্ডকে আরো গতিশীল করতে এবং সদস্যদের মাঝে আমীরে জামায়াতের নির্দেশনাগুলো নিয়মিত পৌছে দিতে আগামীতেও এই ধরণের সমাবেশ অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান প্রধান অতিথি।

অবশেষে অব্যাহতি পেলেন আলোচিত ইউপি ভূমি কর্মকর্তা ফাতেমা

Filed under: সারাদেশ — MD Khaled Bin Firoz @ 12:26 অপরাহ্ন

অবশেষে কর আদায়ের অর্পিত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে আলোচিত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোছা: ফাতেমা খাতুনকে। সম্প্রতি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানা গেছে।
উপজেলার রাণীনগর-গোনা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোছা: ফাতেমা খাতুনের বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবদেনগুলো ব্যাপক ভাইরাল হয়। বিশেষ করে সম্প্রতি “১০৭টাকার খাজনার জন্য ঘুষ দিতে হয় আড়াই হাজার টাকা” শিরোনামে দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
এছাড়া কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বহিরাগত দালালকে ভূমি অফিসে বসিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করা, সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে একাধিকবার প্রতিবদেন প্রকাশিত হয়। এমন প্রতিবদেনের প্রেক্ষিতে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় মোছা: ফাতেমা খাতুনের উপর অর্পিত ভ’মি উন্নয়ন কর আদায় সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের দায়িত্বভার সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার মো: সিরাজুল ইসলামের উপর প্রদান করা হয়েছে।
১০৭টাকার খাজনা প্রদানে আড়াই হাজার টাকা ঘুষ দেয়া ভুক্তভোগী কাজী গোলাম কুদ্দুস বলেন এমন দুর্নীতবাজ কর্মকর্তার জন্য এই শাস্তিটুকু অনেক কম হয়ে যায়। এমন কর্মকর্তাদের জন্য আজ ভূমি অফিসগুলো ঘুষ বাণিজ্য আর অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। যদি এই দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তাকে দ্রুত এই অফিস থেকে বদলী করা না হয় তাহলে আমরা ভুক্তভোগীরা আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে ফাতেমাকে তার উপর অর্পিত কর আদায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছি। পরবর্তি নির্দেশনা ছাড়া তিনি কর আদায়ের কোন কাজই করতে পারবেন না। যদি আবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Powered by WordPress