সিলেট এর ওসমানীনগরে আ’লীগের ছত্রছায়ায় বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা

0
1

এস এম ইমাদ আহমদ, বিশেষ প্রতিনিধি সিলেটবিভাগ :: সিলেটের ওসমানীনগরে বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা কৌশলী ভূমিকায় ক্ষমতাসীন দলের সাথে গোপন আতাত করে ভাগ-বোটোয়ারা ও ব্যক্তি সুবিধা আদায়ে ব্যস্থ রয়েছেন। উপজেলা পরিষদের সর্বোচ্চ পদ এবং উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে বিএনপির জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। দলীয় কর্মসূচি থেকে তারা নিজেদের রাখছেন আড়াল করে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাছিলে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্বের সৃষ্টি করেছেন বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ তুলেছেন।

দলীয় প্রতিক ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও এসব জনপ্রতিনিধিরা দুর্দিনের কান্ডারী নেতাকর্মীদের এখন আর মনে রাখছেন না। এছাড়া বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জোটের সেই এমপি বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। ওসমানীনগরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কোনো সভা, সমাবেশ, দলের সাংগঠনিক তৎপরতা কিংবা দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরশীল হতে দেখা গেছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যানরা দলীয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে ক্ষমতাসীন দল এবং প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদের চেয়ার ঠিক রাখছেন। জনপ্রতিনিধিদের এমন স্বার্থন্বেষী আচরণে স্থানীয় বিএনপি ও সংযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। সাদিপুর ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনে ঘরোয়া কোন্দলের বিষয়টি প্রকাশ পায়। দলীয় প্রার্থীকে বয়কট করে ভোটের মাঠে সবর ছিল না বিএনপি। ফলে ধানের শীষের প্রার্থীর ভরাডুবী হয়।

এদিকে, ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী, বিএনপির দলীয় জনপ্রতিনিধি ও কথিপয় নেতাকর্মীরা ৭ই মার্চসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে সুর মিলিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করে বক্তব্য দেয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষিয়টি নিয়ে তারা গণমাধ্যমে বিবৃতিও দিয়েছেন।

তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামীলীগ ঘেঁষে থাকার কৌশল হিসেবে ৭ই মার্চকে অত্যধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাসকে আড়াল করেছেন। যারা বিএনপি থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জিয়াউর রহমানের অবদানকে হেয় করছে তাদের রাজনৈতিকভাবে বয়কট করা উচিত। নইলে এসব সুযোগ সন্ধানীদের জন্য আগামীতে দল আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, এমপি আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এমপির সাথে আমাদের আদর্শিক অমিল রয়েছে। বিএনপির যেসব জনপ্রতিধি এমপির অনুগত হয়েছেন নেতাকর্মীরা তাদের বয়কট করবে।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জরিদ হোসেন বলেন, অভিযোগগুল সত্য নয়, কিছু স্বার্থন্বেষীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপি দলীয় জনপ্রতিনিধিদের কোন দূরত্ব নেই।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি ৭ই মার্চকে সম্মান করে। ২৬মার্চকেও স্বাধীনতা দিবস হিসেবে মান্যতা দেয়। ইদানিং বিএনপিতেও কতিপয় সুযোগ সন্ধানী, সরকার দলীয় দালালের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কতিপয় জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবি ও রাজনৈতিক দলকানারা র স্বাধীনতা আন্দোলনে জিয়াউর রহমানের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে চান না।
ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে সরকারি নিদের্শনা পরিপন্থি কোনো বক্তব্য দেয়ার এখতার নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে আমি ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সুসম্পর্ক রয়েছে আমরা দলীয় কর্মসূচিগুলোতে অংশ গ্রহণ করছি