হাতকাটা বাহিনীর প্রধান অভিযুক্ত বাঁধনসহ গ্রেফতার ৪

0
6

সাইমুল ইসলাম সাজু : কুড়িগ্রামে কলেজ শিক্ষক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মিন্টুর হাত কেঁটে নেয়ার ঘটনায় হাত কাটাবাহিনীর প্রধান অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বাঁধন ওরফে হাতকাটা বাঁধনকে ২ সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকার বাইপাইল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। হাতকাটা বাহিনীর প্রধান অভিযুক্ত বাঁধনসহ গ্রেফতার ৪

সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ, রাজারহাট থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার বাইপাইল এলাকা থেকে মিন্টুর ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান বাঁধন ওরফে ‘হাতকাটা’ বাঁধন এবং তার অন্যতম সহযোগী রশিদ মিয়াকে গ্রেফতার করে।

মাজহারুল ইসলাম ও শুভকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মেহেদী হাসান বাঁধন জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম এলাকার মুকুল মিয়ার ছেলে। তার মা মর্জিনা বেগম ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত (১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড) নারী ইউপি সদস্য। আর রশিদ মিয়া একই ইউনিয়নের তালুক কালোয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে, মাযহারুল ইসলাম মোনার একই ইউনিয়নের আধগ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

গত ১৬ মার্চ ছাত্রলীগ নেতা মিন্টুর ওপর হামলার পর থেকে এরা পলাতক ছিলেন। এলাকায় এরা ‘হাতকাটা’ বাহিনী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলায় আল-আমিন আহমেদ শুভ নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে কুড়িগ্রাম পৌরসভা এলাকার বকসী পাড়ার আব্দুল আজিজ দুলালের ছেলে।

শুভ এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও গ্রেফতারের পর সে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে সে জেল হাজতে রয়েছে। কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আসামীরা ৭-৮ বার জায়গা পরিবর্তন করে নিজেদের আত্মগোপনে রেখেছিল।

বুধবার দুপুরের দিকে এএসপি উৎপল কুমার রায় ও তদন্তকারী অফিসার পবিত্র সরকার তাদের গ্রেপ্তার করে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা চলছে। কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা শহরের মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আতাউর রহমান মিন্টু গত ১৬ মার্চ দুপুরে জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর হামলার শিকার হন।

হামলাকারীরা কুপিয়ে তার ডান হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অপর হাত ও দুই পা গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে মিন্টু ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ( পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।