নদীকে খাল বানানোর প্রকল্পে স্থানীয় এমপির কঠোর হুশিয়ারী

0
1

বিপুল জামান লিখন(নেত্রকোণা প্রতিনিধি)নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী আমতলা ও সান্দিকোণা ইউনিয়নের মধ্যে বয়ে যাওয়া বেতাই নদীকে খাল রূপান্তরকারীদের বিরুদ্ধে কঠিন হুশিয়ারী দিলেন নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল।

নদীকে খাল বানানোর প্রকল্পে স্থানীয় এমপির কঠোর হুশিয়ারী
নদীকে খাল বানানোর প্রকল্পে স্থানীয় এমপির কঠোর হুশিয়ারী

বেতাই নদীর ভেতর খাল! যারা নদীকে খাল বানানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত তাদেরকে কোন ছাড় নয়। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত পূর্বক যারা বেতাই নদীর দূর্নীতিবাজ জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন-নদীকে খাল বানানোর নেপথ্যে যে বা যারাই জড়িত তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন- দূর্নীতিবাজ যে বা যারাই হোক তাদের সাথে কোন আপোষ নেই। দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমি বরাবরই সোচ্চার ছিলাম,আছি। আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে যারা বিকৃতি করতে চায় তাদের বিরূদ্ধে কঠিন ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। শনিবার দুপুরে প্রশ্ন উত্তরে তিনি বেতাই নদী প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন।

 

জানা গেছে -বেতাই নদীকে খাল বানিয়ে চলমান খনন কাজের সভাপতি ইসলাম উদ্দিন এমপি অসীম কুমার উকিলের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে এমপি অসীম কুমার উকিল কঠিন হুশিয়ারী দিয়ে বলেন- বেতাই নদীকে খাল নয়- আগে বেতাই নদী লিখে পরে আসেন।

 

উল্লেখ্য যে,বেতাই নদী খনন প্রকল্পে বেতাই নদীকে খাল দেখানো হয়েছে। সার্ভেয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযসারে ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রকল্পটিতে ৩ ধারায় খনন কাজ হচ্ছে। স্থানের বিভেচনায় উপর অংশে ৩০ ফুট নিচের অংশে ১৩ ফুট যথাক্রমে উপরে ৪৪ ফুট নিচে ২৬ ফুট,উপরে ২৫ ফুট নিচে ১০ ফুট প্রস্থ এবং খালের তলায় ৫ ফুট গভীর।

স্থানীয় জনগণের মতে,পরিকল্পিত ভাবে বেতাই খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ সমবায় থেকে নিবন্ধন নিয়েছে। সমবায় কর্মকর্তা জানান-এলজিইডির নিবন্ধন ভুক্ত প্রকল্পের সমিতি সুপারিশক্রমে নিবন্ধন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন-এ সমিতি সভাপতি ইসলাম উদ্দিন, সহ সভাপতি আজিজুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, সম্মানিত সদস্য এমদাদুল হক সহ আরও সদস্য রয়েছে।

 

প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল জানান- এটি বৃটিশ আমলের নদী। কিছু জায়গায় নদী,কিছু জায়গায় খাল। কোথাও সুতি,কোথাও রাজী,কোথাও বেতাই। এক নং খাস খতিয়ান বিআরএস এ শ্রেণী নদী উল্লেখ রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- নকশা ও বিআরএসে নদী উল্লেখের বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

 

এদিকে ইতোমধ্যে ‘হেল্পলাইন কেন্দুয়া’ ও ‘হৃদয়ে কেন্দুয়া’ নামে সংগঠন বেতাই নদীকে খাল বানানো চলবে না মর্মে মানববন্ধন করে।

কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে খাল ও পুকুর খনন প্রকল্পের আওতায় বেতাই নদীতে ১৬টি প্যাকেজে ১১ কিলোমিটার বেতাই খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যায়ে এ প্রকল্পের খনন কাজটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

 

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া প্রকৌশলী জাকির হাসান বলেন, প্রকল্প কমিটি প্রকল্পের ৭০% টাকা উত্তোলন করেছে। বাকী টাকা এখনো উত্তোলনের বাকী। এটি যে নদী তা আমাদের জানা ছিল না। আর কেউ বলেনি। খননকাজ এখনো শেষ হয়নি। আরো কিছু স্থানে খননকাজ বাকি রয়েছে। নদী আর খালের নামের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষে সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন,সরকারী কাগজ অনুযায়ী বেতাই একটি নদী কোনক্রমেই তা খাল নয়। আর সরকারী নিয়মানুযায়ী যে কোন নদী খননের দায়িত্ব পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের। নদী খনন বা বাধঁ তৈরীর কাজ তাঁরাই করবেন। কিন্তু সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক মিথ্যা তথ্য দিয়ে খাল বানিয়ে প্রস্তাব দেয়া প্রকল্পটির তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করে এলজিইডি কিভাবে অন্য মন্ত্রনালয়ের কাজ মিথ্যা তথ্য প্রদান করে জাইকা কতৃক প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে কাজ চলমান রেখেছে তা কারো বোধগম্য নয়।যা সরাসরি দুর্নীতি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্তের দাবী রাখে।।

 

কেন্দুয়াবাসী বেতাই নদীকে নদী হিসেবেই দেখতে চায়।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান।