রাঙ্গামাটির অসহায় মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি নাম মানবিক যোদ্ধা এস আই জহির

0
2

মো আরিফুল ইসলাম,রাঙ্গামাটি:  পৃথিবী নামক এই ছোট্ট গ্রহের সব চেয়ে আজ প্রানী আমরা মানুষ।যারা চাইলে ভালোবেসে বিশ্বকে নন্দিত করতে পারি আবার ঘৃনা দিয়ে নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে পারি সারা বিশ্বকে।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহীনী বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম।কারো কাছে সে প্রশংসনীয় আবার কারো কাছে নিন্দনীয়।ভালো মন্দের সংমিশনেইতো আমাদের চারপাশ।তবে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুলিশের কিছু ব্যাক্তি তাদের আদর্শ ও মানবিকতার ওপড়ে অটল থেকে অসহায় মানুষের পাশে প্রতিনিয়ত দাড়িয়েছেন।

জনগন আশ্বস্ত করেছেন যে পুলিশ আসলেই জনগনের কতটা আপন হতে পারে।তেমনই একজন হলেন রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত এস আই মোঃ জহির। তিনি বিগত ১৯/১০/২০১৯খ্রিঃ রাঙ্গামাটি জেলায় যোগদান করেন। রাঙামাটি জেলায় যোগদান করার পর তিনি প্রতিনিয়ত কোন না কোন মানবিক কাজ করেই যাচ্ছেন।

তিনি মূলত সমাজে ছিন্নমূল হতদরিদ্র শারীরিক প্রতিবন্ধী, অসহায় মানুষ খুঁজে খুঁজে কাউকে হুইল চেয়ার, কাউকে নগদ অর্থ, শীতবস্ত্র, ত্রান সামগ্রীসহ বিভিন্নভাবে সমাজের অস্বচ্ছল অসহায় মানুষদের সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।ইতিমধ্যেই রাঙ্গামাটিবাসীর সব চেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন তিনি।

তিনি করোনাকালীন তার ব্যক্তিগত হজ্জের জন্য জমানো টাকা তুলে নিয়ে করোনা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। রাঙামাটিতে করোনা পজেটিভ রোগীদের খাদ্য, ঔষুধ প্রদান করেছেন।

রাঙামাটিতে তার উল্লেখযোগ্য মানবিক কাজ গুলোর মধ্যে বন্ধুকভাঙ্গা ইউনিয়নের মুবাছড়ি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী জয়কুমারী চাকমা(৪০) এবং রাঙ্গামাটি পৌরসভার চম্পকনগর এলাকার আব্দুল জলিলের কলোনীতে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ কামাল হোসেন প্রকাশ রাজা মিয়া(১৪), ভেদভেদী মুসলিম পাড়ার দূর্ঘটনায় মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাওয়া রোগী নয়ন(৩৫), পশ্চিম ভেদভেদী শারীরিক প্রতিবন্ধী আঃ শুক্কুর(২০), পুরানবস্তির দূর্ঘটনায় পা হারানো সেলিম(৪৮), আঞ্জুমুল(৩৩), তবলছড়ি কর্মচারী কলোনীর সিএনজি চালক হেলাল(৪৫), দেরকে হুইল চেয়ারের ব্যবস্থাসহ আর্থিক সহযোগীতা করেছেন।

এছাড়াও তিনি গতবছর করোনায় লক ডাউনে কাপ্তাই লেকে ক্ষতিগ্রস্থ জেলেদের ত্রান, রিজার্ভমুখ অগ্নিকান্ডে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে ত্রান এছাড়া চম্পকনগর শারীরিক প্রতিবন্ধী তানিয়াকে আর্থিক ও ত্রান সহায়তা, ভেদভেদী মুসলিমপাড়া ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী মরিয়মের একমাত্র মেয়ে আছমার লেখাপড়ার সহায়তাসহ অসংখ্য মানবিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

বর্তমানে লক ডাউনের মাঝে তিনি রমজানের শুরুতে মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ইফতার ও ত্রান সামগ্রী পোঁছে দিচ্ছেন। তার এই কাজে বড় একটি আর্থিক সার্পোট দিচ্ছেন মানুষ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসি নাসির কাশেম।

এছাড়া তিনি তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল লক্ষীপুর রামগঞ্জ থানায় একাধিক শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপক মানবিক কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন।

এসআই জহির জানান পুলিশ জনগনের সবচেয়ে কাছে কাজ করার সুযোগ পাই এবং চাইলে জনগনের সত্যিকারের বন্ধু হতে পারে। সেই লক্ষে তিনি চাকুরীর পাশাপাশি মানবিক কাজ করে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জল ও দেশের জন্যে মানবিক। কাজে ভূমিকা রাখতে চান। তিনি তার এই মানবিক কার্যক্রমে সবসময় রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য সিনিয়র অফিসারদের সহযোগীতা পেয়ে থাকেন বলে জানান।

এস আই জহিরের বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।দেশপ্রেমিক বাবার দেশপ্রেমী ছেলের এমন মানবিক কাজ সামনেও চলমান থাকার প্রত্যাশা করছেন রাঙ্গামাটিবাসী।