পুলিশ সেজে প্রতারণার ফাঁদ। অভিযুক্ত পলাতক

0
0

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :জন্মগত নাম মোঃ কামরুজ্জামান। কিন্তু এই নামে তিনি তেমন পরিচিত নন। কি ভাবছেন একটা মানুষের একাধিক নাম থাকতেই পারে সমস্যা কোথায়? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন সোজাসাপ্টা হলে কিছু সমস্যা থাকার কথা না।

কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে অন্য যায়গায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ২৮ বছর বয়সী এই কামরুজ্জামান অধিক পরিচিত পুলিশ অফিসার ফারুক নামে। বিভিন্ন এলাকার যুবকদের মাদকসেবী হিসেবে আটক করে পুলিশ পরিচয়ে গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধ ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়াই তার কাজ।

তবে এর আড়ালে তাঁর আসল পেশা মাদক ব্যবসা। শহরের মধ্যপাড়া এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে থেকে পৌরসভার সব এলাকাতেই মাদক সাপ্লাই দেয় এই ভুয়া পরিচয়দানকারী পুলিশ।

অতি সম্প্রতি তার প্রতারণার শিকার এক তরুণের বক্তব্যানুযায়ী এলাকার স্বেচ্ছাসবী মাদকবিরোধী যুবকেরা তার বাসায় খোঁজ করতে গেলে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল।

এই ব্যাপারে স্থানীয় একজন নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, আমরা কামরুজ্জামানের খোঁজে তার বাসায় গেলে সে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায়।

তখন তার রুমে ঢুকেই তার বিছানায় ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও একটি পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ড দেখতে পাই আমরা। তখন আমরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তার রুম থেকে ভূয়া পুলিশের আইডি কার্ড সহ সেখানে থাকা তিনটি পাসপোর্ট, তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ এবং দুইটি ডায়েরি উদ্ধার করে।

তিনি তার দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে বলেন, আমরা মাদক মুক্ত এলাকা চাই, যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রতারণার শিকার আরমান বলেন, কিছুদিন আগে পুলিশ সেজে আমাকে পিস্তল দেখিয়ে একটি মোটরসাইকেলে উঠিয়ে ১নং পুলিশ ফাঁড়ির সামনে নিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। তখন তাকে আমি সত্যিকারের পুলিশ ভেবে আমার কাছে থাকা হাজার পাঁচেক টাকা দিই এরপর সে আমাকে বোর্ডিং মাঠ এলাকায় ছেড়ে দেয়।

তার রুম থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি থেকে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন যাবত এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।তার ডায়েরিতে দেখা যায় মধ্যপাড়া সহ অন্যান্য এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নাম ও তাদের কাছে বিক্রিত মাদকের পরিমান।

এলাকাবাসী জানান,তার বাসায় প্রতিদিনই মোটর সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন এলাকার ছেলেরা আসত।মাঝে মাঝে র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের ও দেখা যেত তার সাথে।পুলিশের সোর্স ভেবেই কেউ কিছু বলতে সাহস করতো না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ১নং পুলিশ ফাঁড়ির টি আই আসহাব বলেন, ভূয়া পুলিশের আইডি কার্ড সহ ল্যাপটপ, ডায়েরি,পাসপোর্ট ফাঁড়িতে জমা রাখা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।