যশোরের এক যুবকের কাছে প্রতারণার স্বীকার হন বিভিন্ন কোম্পানি

0
6

মাহামুদুল কবির (নয়ন), ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটী গ্রামের- পিতাঃ রবিউল ইসলাম,মাতাঃ নাছিমা বেগমের পুত্র এনামুল হক নামে এক যুবকের কাছে প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ব্যক্ত করেন বিভিন্ন কোম্পানি।
তিনি পেশাই একজন ব্যাবসায়ী। তিনি দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে ব্যবসা করেন বলে জানা যায়। ব্যাবসাকালীন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির সিনিয়র অফিসার দের সাথে একটা ভালো সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।
সুসম্পর্ক হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন কায়দায়, কৌশলে অল্প টাকা নগদে প্রদান করে বেশি টাকার পণ্য বাকি ক্রয় করে থাকেন। পরে বাকি টাকা পরিশোধ এর সময় তার আর খোঁজ মিলে না।
এই ভাবে শুরু হয় তার প্রতারণার কারিশমা। ইতিমধ্যে স্পান ফুড এন্ড বেভারেজ লিঃ এর সিনিয়র অফিসার মাহামুদুল কবির (নয়ন) এর শরনাপন্ন হন প্রতারক এনামুল হক।
প্রতারক এনামুল এর শশুর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার, মহেশপুর উপজেলার, ভৈরবা বাজার এলাকা হওয়াই সে সুবাদে তিনি সেখানে ব্যাবসা করেন। সেখানে স্পান ফুড এন্ড বেভারেজ লিঃ এর সিনিয়র অফিসার মাহামুদুল কবির (নয়ন)
এর সাথে তার একটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।
এর পর দুই-একবার অল্প কিছু টাকার পণ্য নগদ ও বাকিতে ক্র‍য় করেন ঐ অফিসার এর মাধ্যমে। পরে বাকি দেনা পরিশোধ করে তৃতীয় বার আবার ৩লক্ষ ৫হাজার ৭৪৫টাকার পণ্য অর্ডার দেন অফিসার এর মাধ্যমে ডিপোকে। বেশি টাকার পণ্য বলে ডিপো মাল দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে কোম্পানির অফিসার অনুরোধ করে মাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মাল পাঠানোর সময় প্রতারক এনামুল কে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিপো ও অফিসার কিছু টাকা এডভান্স এর জন্য বললে এনামুল মাল পৌছানোর পর সব টাকা একবারে ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে উত্তলন করে প্রেমেন্ট করবেন বলেন। পূর্বের লেনদেন সঠিক থাকায় ও বিশ্বাস অর্জন করায় কোম্পানির অফিসার আর বেশ কিছু না ভেবে বিশ্বাসের উপর কোন প্রকার অগ্রীম টাকা ছাড়াই ডিপো,ডিপোর ঝিনাইদহ শাখা অফিস থেকে মাল পাঠিয়ে দেন এনামুল এর ঠিকানায়। মাল পাঠানোর শেষে অফিসার তার সাথে ব্যাবসা পয়েন্টে দেখা করলে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে অফিসারকে একটি ৩ লক্ষ ৫হাজার ৭৪৫ টাকার ব্যাংক চেক হাতে ধরিয়ে দেন। এরপর কাংখিত চেকটি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঝিনাইদহ শাখার ইসলামি ব্যাংকে টাকা উত্তলন করতে গেলে প্রতারক এর একাউন্টে ইনসাফিসিয়েন্ট ফান্ড দেখায়।
এর পর অফিসার প্রতারক এনামুলকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার অনুরোধ করলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এড়িয়ে চলেন। ভুক্তভোগী অফিসার এইভাবে হয়রানির স্বীকার হন প্রায় ২মাস ধরে। পরবর্তীতে প্রতারক এনামুল এর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ভাবে ২৩/০২/২০২২ ইং তারিখে ইসলামি ব্যাংক জীবন নগর শাখা থেকে চেকটি ডিজওনার করা হয়। এরপর কোর্টে মামলার প্রেক্ষিতে ০১/০৩/২০২২ ইং তারিখে প্রতারক বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়৷ নোটিশের জবাব না পাওয়ায় কোম্পানির অফিসার ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে হস্তান্তর যোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন প্রতারক এর বিরুদ্ধে।
বর্তমানে প্রতারক এর বিরুদ্ধে কোর্ট কতৃক একটি সমন জারি করা হয়।
মামলাটি পরিচালনা করছেন এডভোকেট, মোঃ বাবুল আক্তার
এল,এল,বি (অর্নাস)
এল,এল,এম জোজকোর্ট, ঝিনাইদহ।