পাচারের শিকার ছয়জন নারীপুরুষ বাংলাদেশে ফিরে এসেছে

0
6
মোঃ শাহীনুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের আগরতলা নোম্যান্সল্যান্ড চেকপোস্ট দিয়ে ছয়জন নারীপুরুষ বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়,পররাষ্ট মন্ত্রণালয় ,পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশুসুরক্ষা সংস্থার বিশেষ ভূমিকা,ত্রিপুরা মর্ডান সাইক্রেটিক হসপিটাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ সদরের হানিফা আক্তার, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আলপনা খাতুন, ঢাকার কেরানীগঞ্জের রীনা আক্তার, জামালপুরের মানিক মিয়া এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মো. শাহাজান মিয়া। ভারত থেকে উদ্ধারকৃতদের গ্রহণ করার সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, সচিব আসাদুজ্জামান ও রেজাউল হক, আখাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, মর্ডান সাইক্রেটিক হসপিটালের চিকিৎসক ডাঃ মনিকা দেব বার্মা, বেসরকারি সংস্থা পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশুসুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান বিষিষ্ট সংগঠক সৈয়দ খায়রুল আলম,ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান মোঃ শরিফুল হাসান, পোগ্রাম ম্যানেজার তৌসিফ আহমদ কোরেশী, ব্লেইস এন্থনী গোমেজ, ডেপুটি ম্যানেজার, ব্র্যাক,নাঈমা ইসলাম অন্তরা, সাইকো- সোস্যাল কাউন্সেলর ব্র্যাক,নাহিন মাহফুজ সিয়াম,যুবলীগ আখাউড়া উপজেলা সভাপতি মো বাবলু, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো হান্নান মেম্বার , মমানবাধিকার কর্মী সৈয়দ আলী আহসান সৈকত এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে ভিকটিমের প্রত্যেক পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি অর্থ সহায়তা, শুকনা খাবার, এবং কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান,বিশিষ্ট সংগঠক সৈয়দ খায়রুল আলম তাঁদের হাতে এসব সাহায্য তুলে দেন। এর আগে পাচারের শিকার ছয় বাংলাদেশি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হতে আটক হন। ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নির্দেশে তাঁরা আগরতলার মডার্ন সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদের মধ্যে অনেকই এই হাসপাতালে চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাইকমিশন সব সময় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। পরে যখনই অবস্থার উন্নতি হয় তাঁদের দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এরা কীভাবে ভারতে এসেছিলেন সেটি বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন পর জিয়াউর এর ভায়রা ভাই রাজ্জাক তাকে হাতে পেয়ে অনেক খুশি। তিনি আরো জানান যে, মানবিক কাজে সৈয়দ খায়রুল আলম পাশে থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং তার সাথে ঢাকা গিয়ে স্বরাষ্ট্র দফতরে আবেদন করা হয়। আলপনার চাচাতো ভাই দুলাল জানান, ১০ বছর আগে হঠাৎ করে একদিন তাঁদের বোন নিখোঁজ হন। অনেক পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন আগরতলায় মানসিক হাসপাতালে আছেন। কিন্তু কীভাবে গেল আমরা বুঝতে পারছি না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্থল বন্দর আখাউড়া উপজেলার বাংলাদেশ – ভারতের সীমান্তে ফের ঘটলো মিলন মেলা৷ মানবতার অগ্রপথিক, নীরবে কাজ করে যাওয়া মানবিকতার অগ্রদূত, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কৃতি সন্তান, ” পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশুসুরক্ষা কার্যক্রম”এর চেয়ারম্যান, কবি, সাংবাদিক সৈয়দ খায়রুল আলমের বদান্যতায় ও সার্বিক সহযোগিতা, বাংলাদেশ হাইকমিশনার এবং দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক, আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর ও নিরলস পরিশ্রমের ফলে এ মানুষগুলো দীর্ঘ দিন পরে দেশে এসে আপনজনদের উষ্ণ সান্নিধ্য পেলো৷ এর আগেও সাংবাদিক খায়রুল আলমের প্রচেষ্টায় গত ১ নভেম্বর ২০১৯ সালে বিথি আক্তারসহ পাচার হয়ে যাওয়া আরও কয়েকজনকে আইনী ভাবে ও নিজে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়- ঝাঁপ করে দেশে এনে নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই খায়রুল আলম ৷ তাঁর উদারতা ও মানবিকতার বিষয়টা দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে-মুখে ৷