পরকীয়ার জেরে প্রাণ গেলো যুবকের

0
2

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রাজু ওরফে রাজন (১৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডে দেবগ্রামের টানা ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে রাজুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাত ১২টার দিকে মারা যায় সে। নিহতের পরিবার জানায়, পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে অবস্থানকালে দেখে ফেলায় ক্ষিপ্ত হয়ে রাজুকে হত্যা করেছে শুভ (২৫) নামের এক যুবক।

নিহত রাজু দেবগ্রাম এলাকায় দুলাল মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার বাবার নাম আলমগীর হোসেন পেশায় একজন ঠেলাগাড়ি চালক। রাজু তাদের পালিত সন্তান। আর্থিক টানাপোড়েন থাকায় সে নিজেও ডিস লাইন মেরামতকারী হিসেবে কাজ করতো বলে জানা গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলগঞ্জ উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রওয়া গ্রামের বাসিন্দা শুভ একই এলাকার (দেবগ্রাম) বালুচুড়া পাড়ার শেখ রেজাউল করিমের বাসায় ভাড়া থাকেন। তার বাবার নাম সাইফুল ইসলাম।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ ইতোমধ্যেই কথিত প্রেমিকা ঝিনুক ও রাজুর বাবা-মা সহ ছয় জনকে আটক করেছে। সোমবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে আখাউড়া ও কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাহিদ হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ” আমরা নিহতের ডায়িং ডিক্লারেশানের সূত্র ধরে শুভকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। খুনি অচিরেই ধরা পড়বে। তদন্তের কাজ চলমান

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী বলেন,
ওই মেয়েটির সঙ্গে রাজুর যোগাযোগ ছিলো আর এ নিয়েই শুভর সঙ্গে তার বিরোধ হয় বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি । জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

রাজুর বাবা আলমগীর মিয়া জানান, ” ২০ বছর ধইরে আহাউড়া থাহি। এয়ানোই বিয়া করছি। ” (২০ বছর ধরে আখাউড়া থাকি। এখানেই বিয়ে করেছি।)

রাজুর মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন,
” তিন মাস আগে সাইফুল ইসলামের বিবাহিত ছেলে শুভকে অন্য এক মেয়ের সঙ্গে দেখে ফেলেন রাজু। এতেই বাধে বিপত্তি উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে রাজুকে হত্যা করে শুভ। ”

রাজুর আয় ও তার বাবার ঠেলাগাড়ির চালানোর টাকায় সংসার চলতো বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা মা।

কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত

ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই পুলিশ মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।