কসবায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের মামলা: আসামী আড়াই শতাধিক

0
2

মো. মুন্তাসিরুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর প্রতিনিধি: দুইদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কসবায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। গতকাল শনিবার (৬ মার্চ) রাতে কসবা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে এই মামলা করেছেন।

এতে মোট ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও অপরিজ্ঞাত আরও প্রায় দুইশত পঞ্চাশ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। আজ রোববার (৭ মার্চ) ভোরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- রবিউল্লাহ (৩১), রাসেল (৩০), সালাহউদ্দিন (২৭), রবিন (২৪), হৃদয় (২২), মো. কাইয়ূম (২২)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে তিন সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার

এদের মধ্যে রবিউল্লাহ উপজেলার নোয়াপাড়া এবং বাকিরা তেতৈয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূঁইয়া মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ শনিবার রাত ১২টার পর মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নথিভুক্ত করা হয়।

ইতোমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছি। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। ‘ উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৫ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের উপস্থিতিতে দুই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বেশ কয়েক দফায় কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত চত্ত্বর এলাকায় থেমে থেমে চলে এই সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক বছর পর নিজ নির্বাচনী এলাকা কসবায় স্মার্টকার্ড প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আগমন উপলক্ষ্যে বেলা ১১টার দিকে কসবা পৌরসভার বর্তমান মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম এ আজিজের সমর্থকরা স্থানীয় উপজেলা পরিষদের সামনে মিছিল নিয়ে আসেন।

এক পর্যায়ে জুয়েল ও আজিজ সমর্থকরা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজেদের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।

এম এ আজিজ এবং এমরান উদ্দিন জুয়েল দুজনেই ৬ষ্ঠ ধাপে হতে যাওয়া স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। বেলা সোয়া ১১টা আইনমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাঁর বক্তব্য চলাকালে তাঁর সামনেই আবারও সংঘর্ষ ও হাতাহাতিতে জড়ায় দু দল। উপর্যুপরি চলা এই সংঘর্ষে ১০ টি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ।

ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় চরমভাবে বিব্রত আনিসুল হক (আইনমন্ত্রী) কসবা পৌর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ’র কমিটি ভেঙে দেয়ার হুশিয়ারি দিয়ে পুলিশি পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।