আত্রাইয়ে সিজারিয়ান অপারেশন চালু

0
7

তপন কুমার সরকার, আত্রাই(নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় পর সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। দুই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এ সেবা চালু হলো বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রোকসানা হ্যাপি। এ খবর প্রচার হবার সাথে সাথে আত্রাইবাসীর মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল জানায়, আশির দশকে ৩১ শয্যা নিয়ে হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলে ২০০০ সালে প্রসূতি সেবা চালু করা হয়। অবকাঠামোগত সকল সুযোগ সুবিধা থাকার পর অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসকের অভাবে গত পাঁচ বছর সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। তবে নরমাল (স্বাভাবিক) প্রসব চালু ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে ৪১টি, অক্টোবর মাসে ৩৫টি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩টি নরমাল প্রসব হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার হিসেবে ডা. রোকসানা হ্যাপী যোগদান করেন । যোগদানের পর থেকে চিকিৎসা সেবার মান, ভায়া টেষ্ট চালু, হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন করার চেষ্টার পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন সোম ও বুধবার সিজারিয়ান অপারেশনের দিন নির্ধারণ করলেন তিনি। জানা গেছে, জেলা শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দক্ষিনে অবিস্থত আত্রাই উপজেলা। সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে উপজেলাবাসীকে।

সরকারি সেবার জন্য এ সময়ে উপজেলাবাসীকে নওগাঁ- নাটোর অথবা রাজশাহী হাসপাতালে যেতে হতো। বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে হতো। আত্রাই উপজেলা সদরে সাতটি বেসরকারি ক্লিনিক আছে। যার পাঁচটিতে সিজারিয়ান অপারেশন হয়। বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ৮-১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক সময় হয়রানির শিকার হতে হতো রোগীদের। ভরতেতুলিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী রিপন সিজারিয়ান অপারেশন করে দ্বিতীয় ছেলের বাবা হয়েছেন। তিনি জানান, স্ত্রীর আল্ট্রাসনো করা হয়েছিল। এক সপ্তাহ পার হলেও ব্যথা না ওঠায় হাসপাতালে ভর্তি করলে গতকাল ১১টার দিকে সিজার করে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কোনো টাকা-পয়সা না লাগায় আমার মতো গরিবের জন্য খুবই সুবিধা হয়েছে।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রোকসানা হ্যাপী বলেন, অপারেশনের সকল সরঞ্জাম থাকার পরও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। সপ্তাহে দু’দিনের জন্য অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার পেয়ে সিজারিয়ান অপারেশন চালু করলাম। গাইনি ডাক্তার যোগদান করলে সেবার মান আরো বেড়ে যাবে।